মুকসুদপুরে অগ্নিকাণ্ডে ১৮ শত মণ পাট পুড়ে ছাই
বাদশাহ মিয়া,মুকসুদপুর: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় তিনটি পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮ শত মণ পাট পুড়ে গিয়ে দোকানঘরসহ আনুমানিক এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে তিনজন পাট ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মুকসুদপুর সরকারি টিএনটি অফিসের সামনে অবস্থিত একটি পাটের গুদামে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও দুটি গুদামে। এতে তিনটি গুদামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ পাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদি হাসানের নেতৃত্বে মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, এ অগ্নিকাণ্ডে পাট ব্যবসায়ী সুনীল সাহার প্রায় ১ হাজার ৩০০ মণ, নির্মল সাহার ১৭৫ মণ এবং ইকরাম মিয়ার প্রায় ৩০০ মণ পাট সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পাট ব্যবসায়ী সুনীল সাহা বলেন, “প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে রাত আটটার দিকে গুদাম বন্ধ করে বাড়ি যাই। কীভাবে আগুন লেগেছে বুঝতে পারছি না। আমার ১ হাজার ৩০০ মণ পাট পুড়ে গেছে। আমি একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইকরাম মিয়া বলেন, “আমার গুদামে প্রায় ৩ শত মণ পাট ছিল। সবই পুড়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব।”
মুকসুদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদি হাসান জানান, রাত আড়াইটার দিকে স্টেশনের পাশেই পাটের গুদামে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গুদামঘরের পেছনের কাঠের গুঁড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিআলো/ইমরান



