মোহাম্মদপুরে ছুরিকাঘাতে ঢাকা উদ্যানের নৈশ প্রহরী খুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. রবিউল ইসলাম (৩৪) নামে এক নৈশপ্রহরী ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। তিনি মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিংয়ের নৈশ প্রহরী।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার নং-২৫, তারিখ- ১১.১০.২০২৪।
মামলার এজাহারে রবিউলের বড় ভাই উল্লেখ করেন, আমার মেজ ভাই মো. রবিউল ইসলাম (৩৪), তার স্ত্রী চাঁদনী বেগম তাদের ছেলেমেয়েসহ মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান, রোড নং-২, ব্লক-সি, বাসা নং-২৬ ভাড়াবাসায় বসবাস করে। সে ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিংয়ের নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরি করত।
গত শুক্রবার রাতে আমার চাচাতো ভাই জিকরুল তার মোবাইল থেকে জানায়, আমার মেজ ভাই মো. রবিউল ইসলামের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। পরে তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে জেনে সেখানে যাই। ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড হাউজিংয়ের সহকারী ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন ছায়েদী ও সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. আব্দুল হান্নানের মোবাইল ফোনে দেখানো মতে আমার ভাই মো. রবিউল ইসলামের লাশ শনাক্ত করি।
তিনি এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড হাউজিংয়ের সহকারী ম্যানেজার ও তাদের সিকিউরিটি সুপারভাইজারদের কাছ থেকে আমার ভাই মো. রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ভোররাত অনুমানিক ৫টায় লোহার রড চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাই মো. রবিউল ইসলাম তার সঙ্গীয় অন্যান্য নাইটগার্ড মাহফুজ, আব্দুল মালেক, মো. সেলিম মিলে লোহার রড চুরির সঙ্গে জড়িত চোর সুজন ওরফে ডিপজলসহ (২২) তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন চোরকে ধাওয়া করে তাদের কাছ থেকে লোহার রড আটক করে ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড হাউজিংয়ের ভেতর নিয়ে আসে।
পরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন ব্যক্তিদের সহায়তায় আসামি সুজন ওরফে ডিপজল (২২) তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের পেটে ও বাম হাতের বাহুতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। আসামি সুজন ওরফে ডিপজলের (২২) পিতা মো. আনছু। ঠিকানা- ব্লক-এ, রোড নং-৩, ঢাকা উদ্যান, থানা-মোহাম্মদপুর বলে জানা গেছে। ঘটনার দিনের ওই সময়ের আশপাশে সিসিটিভি ফুটেজেও তা পরিলক্ষিত হয়।
নিহত রবিউলের স্ত্রী চাঁদনী বলেন, আমার দু’টি বাচ্চা আছে। বাচ্চা দু’টি নিয়ে কীভাবে খাব, কীভাবে চলব? আমার মেয়ে একটা ক্লাস সিক্সে পড়ে, ছেলে মাদরাসায় পড়ে। এখন তো আমাদের দেখার মতো কেউ নাই, আমি খুব অসহায়। আমি আমার স্বামী হত্যার দ্রুত বিচার চাই।
ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সেক্রেটারি ফজলুল করিম বাদল বলেন, আমরা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। মামলার বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান জানান, ঘটনা জানার পর থেকেই আমাদের পুলিশ বাহিনীর ২টি টিম আসামিকে ধরার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী আমরা আসামিকে ধরার জন্য আইডেন্টিফাই করছি। আসামি সুজন ওরফে ডিপজলের সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা তদন্তাধীন রেখেছি। খুব দ্রুত আসামি ধরা পড়বে বলে আশা করছি।
বিআলো/তুরাগ