• যোগাযোগ
  • সংবাদ দিন
  • ই-পেপার
    • ঢাকা, বাংলাদেশ

    যানজট নিরসনের পথ কী? 

     dailybangla 
    30th Aug 2025 2:16 pm  |  অনলাইন সংস্করণ

    প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম,জ্যামের কারণে ২০২৫ সালে ৪ কি.মি. নিচে চলে এসেছে,১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও মেলেনি সমাধান সূত্র,অটোরিকশা বিড়ম্বনা যানজটের অন্যতম কারণ

    রতন বালো: অসহনীয় যানজট নিয়ে ঢাকাবাসী ত্যক্ত-বিরক্ত। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি যানজটে নাকাল হচ্ছে রাজধানীবাসী। অফিস আদালতগামী মানুষের সঙ্গে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্খীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের জটের কারণে তাদের অফিস আদালতের কাজ সারতে চরম বেগ পাচ্ছেন। সামান্য যে কাজটি দিনের ভিতরে সারা সম্ভব সেই কাজটি সারতে যেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে প্রায় সোয়া ১ লাখ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে যোগাযোগের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে। কিন্তু তারপরও শহরের যানজট পরিস্থিতির অবনতিই ঘটে চলেছে। এক হিসেবে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। এরপর ২০২৫ সাল নাগাদ এটি ৪ কিলোমিটারের নিচে চলে এসেছে এমনটিই বলছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

    অর্থাৎ গত ১৫ বছরে ঢাকায় যানবাহন চলাচলের গড় গতি কমেছে ঘণ্টায় অন্তত ১৬ কিলোমিটার। অথচ একের পর এক ফ্লাইওভার আর নিত্য নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শহরজুড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে প্রায় আট থেকে ১০ বছর। এই যানজটের কারণ নির্নয় করতে যেয়ে পরিবহনের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই গণপরিবহনে চলছে চরম অরাজকতা। তার উপর গোঁদের উপর বিষ ফোড়া ব্যাটারিচালিত রিকসা, বাইকার আরো নতুন নতুন নানান উপদ্রব সড়কে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। এবাদেও ট্রাফিক আইন না মানা এমনকি ট্রাফিক আইনকে অবজ্ঞা করার মতো বিষয়গুলো সামনে এসেছে। বিশেষ করে, ঢাকার বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে। ফলে যাত্রীরা প্রতিদিন যানজট, দুর্ঘটনা, ভাড়ায় প্রতারণা এবং নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। যানজটের দোহাই দিয়ে পরিবহনগুলো ট্রাফিক আইন বা নীতিমালাকে উপক্ষো করছে। একটু সুযোগ পেলেই উল্টো পথে ঝুঁকি নিয়েও তারা চলাচল করছে। শহরের ব্যস্তমত সড়কের পাশের ফুটপাতগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারা দখল করে নিয়ে দেদারচ্ছে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে।

    এ ছাড়া ঢাকার যানজটের একটি বড় কারণ অকার্যকর রুটে চলাচল করা বাস। এ কারণে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কথা শুনা যাচ্ছে। এই শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলো শিগগিরই একক ব্যবস্থার অধীন চালানোর কথাও একাধিকবার উচ্চারিত হয়েছে।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরিবহন শ্রমিক এবং মালিকদের অনীহার মুখে সেসব সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত মঙ্গলবার রাতে এক পোস্টে রাজধানীতে চলাচলকারী সকল বাসকে একক ব্যানারে চালানোর বিষয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন।

    বার্তায় বলা হয়েছে, বাস কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত রুট ও স্টপেজ মেনে চলতে হবে। রুট শৃঙ্খলা ও ভালোভাবে পরিচালিত বাস সার্ভিসের মাধ্যমে যানজট, ভাড়ায় প্রতারণা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে আর এসব বাস্তবায়ন করা গেলে যাত্র হয়রানি কমবে সেই সঙ্গে ভাড়ার নৈরাজ্য থেকে মানুষ মুক্তি পাবে। গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে যা বিশেষ ভুমিকা রাখবে। চলমান নৈরাজ্য ঠেকাতে এবং এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে উল্লেখ করে পোস্টে লেখা হয়, সব বাস একক ব্যবস্থার অধীন চলবে। পোস্টে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে রাজধানীতে বাসে চলাচলের সময় যাত্রীদের আর বাসে উঠতে লড়াই করতে হবে না। ভাড়ায় প্রতারণার শিকার হতে হবে না। ঢাকার লাখ লাখ মানুষের জন্য বাসযাত্রা হবে সহজ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

    ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এ শহরে গাড়ির সংখ্যার হিসেবে যথেষ্ট রাস্তা নেই। এ কারণে যানজট এ নগরীর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। আবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সংস্থাটির তালিকায় শীর্ষ ২০ ধীরগতির শহরের মধ্যে আরো আছে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা এবং কুমিল্লা। অথচ যানজট নিরসন করে শহরকে গতিময় করতে ২০১২ সালের পর থেকে গত এক দশকে সড়ক, সেতু, মেট্রোরেল, উড়ালসড়কসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ সময়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ এবং মেট্রোরেলের একটি রুটের একাংশ ছাড়াও শহরের মধ্যে ছোট-বড় অন্তত সাতটি নতুন ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু তাতে কোনো কোনো জায়গায় কমে এলেও শহরের সার্বিক যানজট অনেক বেড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় ফ্লাইওভারের ওপরেও দীর্ঘ সময়ের যানজট দেখা যাচ্ছে প্রায়ই।

    প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা কম : একটি আধুনিক নগরীতে মোট আয়তনের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ রাস্তা বা সড়ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকায় আছে মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। প্রয়োজনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সড়ক আছে এ শহরে। অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগের হিসাবমতে, ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি দখল হয়ে আছে অবৈধ পার্কিং এবং নানা ধরনের দখলদারদের হাতে। এ ছাড়া ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় প্রধান সড়কেই হেঁটে চলেন নগরবাসী। ফলে যানজটের সঙ্গে আছে জনজট। ১৫ শতাংশ যাত্রী প্রাইভেট গাড়িতে যাতায়াত করেন। প্রাইভেটকারের দখলে থাকে ৭০ শতাংশেরও বেশি সড়ক। বাকি ৮৫ শতাংশ যাত্রী অন্য ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন।

    ঢাকায় সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় অফিস এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চলাকালে ৮০ শতাংশ গাড়ি ব্যস্ত সড়কে যত্রতত্র পার্ক করা হয়। তা ছাড়া ঢাকা শহরের ভেতর দিয়ে রেললাইন যাওয়ার ফলে রাস্তা বন্ধ করে ট্রেন যাওয়ার ব্যবস্থা করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদদের মুভমেন্টের সময় দীর্ঘক্ষণ কিছু কিছু সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই পার্শ্ববর্তী সড়কে সৃষ্টি হয় অসহনীয় যানজট। ঠেলাগাড়ি-বাস একই রাস্তায়। যেমন একই রাস্তায় দ্রুতগামী যানবাহন আর ধীরগতির গাড়ি চলাচল করে, তাও আবার একসঙ্গে। একই সড়কে বাস-মিনিবাস, রিকশা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান, এমনকি ঘোড়ার গাড়িও চলে এবং নিবন্ধিত রিকশার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রিকশা চলাচল করে। ফলে যানবাহনের গতি কমে যায়।

     

    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    August 2025
    M T W T F S S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031