রপ্তানি অর্থনীতি হুমকিতে, কনটেইনার চার্জ বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা
কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ২০-৫০% বৃদ্ধি রপ্তানি অর্থনীতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: অযৌক্তিকভাবে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে Bangladesh Inland Container Depot Association (BICDA)। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটকালীন সময়ে এ পদক্ষেপ রপ্তানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরো সার্ভিস বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবরার উল আলম।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ট্যারিফনীতি ও সার্বিক বাজার সংকটের মধ্যেও BICDA অযৌক্তিকভাবে চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ ফুট রপ্তানি কনটেইনারের চার্জ ৬,১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯,৯০০ টাকা, ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,২০০ টাকা এবং ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনারের চার্জ ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪,৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবরার উল আলম বলেন, এ সিদ্ধান্তে কয়েকটি বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রথমত, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও সরকারের ব্যয় সংকোচনের প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং রপ্তানিকারকরা বিরাট চাপে পড়বেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি পণ্যের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে যেতে পারেন। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন; বড় প্রতিষ্ঠান কিছুটা সামাল দিতে পারলেও ছোট উদ্যোক্তাদের বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি সীমিত করতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। চতুর্থত, জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, কারণ রপ্তানি আয় কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ও হ্রাস পাবে।
তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান, রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে এ চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। খরচ বাড়ানোর পরিবর্তে সেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ডিপো পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
BICDA কর্তৃপক্ষকে চারটি সুপারিশ তুলে ধরেন আবরার উল আলম। এগুলো হলো— (১) কার্গো দ্রুত আনলোডের ব্যবস্থা করা, যাতে অযথা বিলম্ব না ঘটে। (২) আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও স্টোরেজ নিশ্চিত করা। (৩) শ্রমিক সংকট দূর করে পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করা। (৪) খরচ বাড়ানোর পরিবর্তে সার্ভিস উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আবরারুল আলম, আদনান, এমডি ইকবাল, মুনিম মাহফুজ, আনোয়ার হোসেন মিলন, আবুল হাসনাত, শামসুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিআলো/তুরাগ