শবে বরাতের আমল ও করণীয়: যেভাবে কাটাবেন পবিত্র রজনী
বিআলো ডেস্ক: ক্ষমা ও মুক্তির আশাবাদে আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। এ মহিমান্বিত রাতে কীভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
‘শবে বরাত’ ফারসি শব্দ, যেখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি ও সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় একে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
এই রাতে সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিতে হবে তওবার প্রতি। সারাবছর জেনে-না জেনে করা গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্প করা উত্তম আমল।
নফল নামাজ আদায় করা এই রাতের অন্যতম ইবাদত। নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা রাকাতকে বাধ্যতামূলক মনে না করে দুই রাকাত করে যতটুকু সম্ভব নামাজ আদায় করা যেতে পারে। নামাজে খুশু-খুজুর সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত ও রুকু-সিজদায় দীর্ঘ দোয়া করা শ্রেয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে দৃঢ় করে। অন্তত কিছু আয়াত হলেও মনোযোগসহ তেলাওয়াত করা এবং অর্থ অনুধাবনের চেষ্টা করা উত্তম।
দান-সদকা করাও এই রাতের ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গরিব-দুঃখী ও কল্যাণমূলক কাজে দান করলে তিনি তার উত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।
দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নিজের, পরিবার-পরিজনের, মৃত আত্মীয়স্বজনের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা যেতে পারে। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, হালাল রিজিক এবং সুন্দর পরিণতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উত্তম।
শবে বরাতে মৃতদের জন্য দোয়া করা একটি প্রশংসনীয় আমল। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন। তাই ঘরে বসেও পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের মাগফিরাত কামনা করা যেতে পারে।
এছাড়া শাবান মাসের ১৫ তারিখে, অর্থাৎ শবে বরাতের পরদিন নফল রোজা রাখা সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
তবে এ রাতে আতশবাজি, ফানুস ও অনর্থক আড্ডা পরিহার করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদয়াতপূর্ণ ও ভিত্তিহীন প্রথা থেকে দূরে থেকে সুন্নাহসম্মত আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই শবে বরাত পালনের প্রকৃত শিক্ষা।
বিআলো/শিলি



