শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী
ত্যাগ, নেতৃত্ব ও মানুষের জন্য রাজনৈতিক দৃষ্টি
রুবিনা শেখ: ১৯ জানুয়ারি—ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ দিন হলেও বাংলাদেশের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ১৬,৫৬৮ দিনের জীবনযাত্রায় তিনি ছিলেন সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রনায়ক—একসঙ্গে এতগুলো পরিচয় ধারন করা খুব কম মানুষেরই نصيب হয়।
মেজর হিসেবে যাত্রা শুরু করা জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার অঙ্গনে আসলেও তার রাজনীতি সবসময় রাস্তা, মাঠ ও গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়নের দর্শন থেকে পরিচালিত হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে তার প্রচেষ্টা তাকে স্বতন্ত্র উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং সমর্থন-সহ বিরোধিতার মোকাবিলা—সবই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ। যদিও ক্ষমতার রাজনীতি তার জীবন কেড়ে নেয়, তবুও তার নাম ও আদর্শ আজও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে:
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল
আলোচনা সভা
জেলা ও মহানগর পর্যায়ে স্মরণসভা
শীতার্ত মানুষের পাশে কম্বল বিতরণ
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রত্যাগত প্রবাসী সংগঠন সভাপতি এস এম সোরাব হোসেনের নেতৃত্বে পৃথকভাবে স্মরণসভা, আলোচনা ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। দলীয় নেতাদের মতে, তিনি দুর্দিনে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং নেতাকর্মীদের সাহস যোগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সংগ্রাম, দৃঢ় সিদ্ধান্ত এবং স্বপ্নের ইতিহাস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রেখে গেছেন—এটি প্রতিটি দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ১৯ জানুয়ারি তাই শুধুই জন্মদিন নয়, এটি ইতিহাস স্মরণ, ত্যাগের মূল্যায়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।
বিআলো/তুরাগ



