শিশুশ্রম বন্ধে কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ
অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিনিধিরা
বিশেষ প্রতিনিধি: শিশুশ্রম বন্ধে কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নগর শিশুশ্রম টেকসইভাবে মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী খাতভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইকো স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ সুপারিশ করেন তারা। শিশুশ্রম নিরসনে অধিকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ-উজ-জামান।
এডুকো বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, এডুকো বাংলাদেশের পরিচালক আব্দুর রহিম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুশ্রম জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে। তাই শিশুশ্রম নিরসনে সকলের জন্য সুশিক্ষা ও কর্মমূখী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ সকল বিষয়ে কাজ করছে। কিন্তু সরকারের এককভাবে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব না, কোনো সংস্থাও এককভাবে এটা নিরসন করতে পারবে না, এটা সামষ্টিক কাজ। শিশুশ্রম নির্মূল করতে হলে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং কমিউনিটির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।
ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশলে রূপান্তরের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটা বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কাজ চলছে। দেশে এখন অন্ততঃ ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে এটা আরো বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে অনেক বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোন সহযোগিতা করতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্র। তাই দারিদ্র নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এ বিষয়ে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. শহীদ-উজ-জামান বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও টেকসই কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তাই শিশুশ্রম নির্মূলের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিআলো/তুরাগ



