শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেট–২০২৬: চ্যাম্পিয়নের মুকুট সিটি ব্যাংকের ঘরে
ব্যাটে–বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে পঞ্চম আসরের শিরোপা নিজেদের করে নেয় সিটি ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের হিসাব–নিকাশ আর করপোরেট ব্যস্ততার বাইরে তিন দিনব্যাপী এক রোমাঞ্চকর ক্রিকেট উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল মাঠ। ব্যাট–বলের লড়াই, দর্শকদের উল্লাস আর করপোরেট সৌহার্দ্যের মিলনে অনুষ্ঠিত “বিজিআইসি প্রেজেন্টস শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেট’২৬ – পাওয়ার্ড বাই মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স (সিজন–৫)”-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ছিনিয়ে নেয় সিটি ব্যাংক পিএলসি।
উত্তেজনাকর ফাইনাল ম্যাচে ব্যাটে ও বলে দাপুটে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সিটি ব্যাংক। টানটান লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে হারিয়ে শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেটের পঞ্চম আসরের শিরোপা নিজেদের করে নেয় দলটি। টুর্নামেন্টে রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স।
গত ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত ৮টি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি ম্যাচেই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, শৃঙ্খলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ—যা করপোরেট ক্রিকেটের প্রকৃত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে।
অংশগ্রহণকারী দলসমূহ:
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি, লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ইপিএল, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
প্রথম রাউন্ড শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ইপিএল, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি।
প্রথম সেমিফাইনালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসিকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে সিটি ব্যাংক। অপর সেমিফাইনালে ব্র্যাক ইপিএলকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স।
উত্তেজনাকর ফাইনাল ও শিরোপা নির্ধারণ
গ্র্যান্ড ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি ব্যাংক। নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সমন্বয়ে তারা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে চাপে রাখে। শেষ পর্যন্ত দর্শকদের করতালি ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিটি ব্যাংক পিএলসি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেন টুর্নামেন্টের চিফ অর্গানাইজার মনজুরুল হক রনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজনেস জার্নালের প্রকাশক ও সম্পাদক হাসান কবির জনি, আরটিভির রিপোর্টার রনি মজুমদার, বাংলাদেশের আলো’র বিশেষ প্রতিনিধি কাঞ্চন চৌধুরী সুমন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুন্নবি বিপ্লবসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে মনজুরুল হক রনি বলেন, “শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেট শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য, বন্ধন ও ইতিবাচক করপোরেট সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন নিয়ে যেতে চাই।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজনেস জার্নালের প্রকাশক ও সম্পাদক হাসান কবির জনি বলেন, “করপোরেট জগতের মানুষদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্ট বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে।”
নিউজ টুয়েন্টি ওয়ানের সিইও রনি মজুমদার বলেন, “এই আয়োজন প্রমাণ করে শেয়ারবাজার কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এটি সম্পর্ক, নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্কের গল্পও বলে।”

বাংলাদেশের আলো’র বিশেষ প্রতিনিধি কাঞ্চন চৌধুরী সুমন বলেন, “শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেট একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ, যা করপোরেট সংস্কৃতিকে আরও মানবিক করে তোলে।”
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুন্নবি বিপ্লব বলেন, “শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দলগত ঐক্যের শিক্ষা খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। এই টুর্নামেন্ট তার বাস্তব উদাহরণ।”
তিন দিনব্যাপী পুরো টুর্নামেন্টটি এশিয়ান টেলিভিশন ডিজিটালে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা দেশজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মাঠে ও অনলাইনে দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে—শেয়ারবাজার করপোরেট ক্রিকেট এখন একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করপোরেট স্পোর্টস ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য, ক্রীড়া সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সফল এই আয়োজনের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম।
বিআলো/তুরাগ



