সমীক্ষায় এগিয়ে মোদি, বিজেপির ভরসা অমিত শাহ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে ফের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কারণ, সাম্প্রতিক ‘মুড অফ দ্য নেশন’ (এমওটিএন) সমীক্ষার রিপোর্ট জানাচ্ছে—মোদির জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও তিনি এখনো দেশের মানুষের প্রথম পছন্দ। ভারতে ১ জুলাই থেকে ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত চলা এক সমীক্ষায় এ সব তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৫৪ হাজার ৭৮৮ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। আরও বড় আকারে, গত ২৪ সপ্তাহে ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি মানুষের মতামতকে বিশ্লেষণে ধরা হয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, অগাস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মক্ষমতা নিয়ে সন্তুষ্ট মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৬২ শতাংশ। জনপ্রিয়তা সামান্য কমলেও, বিরোধীরা যে এখনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে উঠতে পারেনি, তা-ও স্পষ্ট।
যখন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে মোদির কাজ কতটা ভালো, তখন ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ তাকে ‘অসাধারণ’ বলেছেন, আর ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ বলেছেন ‘ভালো’। অন্যদিকে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বলেছেন ‘গড়’, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন ‘খারাপ’, এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বলেছেন ‘খুব খারাপ’। ফেব্রুয়ারির তুলনায় এবার অসাধারণ বলার সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে।বিজেপির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সমীক্ষায় অমিত শাহ এগিয়ে আছেন। ২৮ শতাংশ মানুষ তাকে মোদির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। বিজেপির অন্য নেতৃত্বের জন্য সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম থাকায় স্পষ্ট হচ্ছে যে শাহ-ই বিজেপির সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন ভবিষ্যতে।
এনডিএ সরকারের কার্যকারিতা সম্পর্কেও মিলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ সরকারের কাজকে ভালো বলেছেন, এবার সেই হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ৪ শতাংশে। প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে সন্তুষ্টির হার। তবে, সরাসরি অসন্তোষ জানিয়েছেন মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো নিরপেক্ষ বা সংশয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন তারা না খুশি, না অসন্তুষ্ট। অগাস্টে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশিমক ৩ শতাংশে। এর মানে, মানুষের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির তৃতীয় মেয়াদের শুরুটা যতটা জোরালো ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়ছে। অর্থনীতি, বেকারত্ব, কৃষি ও সামাজিক ইস্যুতে সরকারকে আরও কাজ করতে হবে। নইলে আগামী দিনে এই ছোটখাটো ধাক্কা আরও বড় আকার নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীরা যদি নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে না পারে, তাহলে জনপ্রিয়তা কিছুটা কমলেও মোদি এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারলে বিজেপি শিবির আরও কিছুদিন স্বস্তিতে থাকতে পারবে।
বিআলো/ইমরান