সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত এডি লাইন নির্ধারণ অপরিহার্য: সিনিয়র সচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা নির্ধারণে Alluvion (পয়স্তি) ও Diluvian (সিকস্তি) Line বা এডি লাইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ। তিনি বলেন, নদীভাঙন, চর জাগা ও পলি সঞ্চয়ের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় জমির আয়তন ও অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। এসব পরিবর্তনের আইনগত স্বীকৃতি নির্ধারণে সিকস্তি ও পয়স্তি ধারণা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সার্ভেয়ারগণ কর্তৃক এডি লাইন সৃজন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের মডিউল চূড়ান্তকরণ সেমিনারে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আবুল খায়ের।
সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, অবৈধ দখল ও দীর্ঘসূত্রতা একটি বড় সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সিকস্তি ও পয়স্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এডি লাইন নির্ধারণ ও হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, Alluvion–Diluvian Line সৃজন কেবল একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি ভূমি ন্যায়বিচার, রাজস্ব সুরক্ষা ও সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। সঠিকভাবে এই রেখা নির্ধারণ না করা হলে ভূমি বিরোধ, জাল দলিল, প্রভাবশালীদের দখলদারি এবং দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
Diluvian line বা ভাঙনের সীমারেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ও আইনগত রেফারেন্স লাইন, যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় ভাঙনের আগে জমির অবস্থান এবং চর জাগার পর মালিকানা কার হবে। ফলে এই রেখা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার কথা উল্লেখ করে সিনিয়র সচিব জানান, এসব এলাকায় সার্ভেয়ারদের জন্য দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, নদীশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় Alluvion ও Diluvian line-এর বৈজ্ঞানিক, আইনসম্মত এবং ডিজিটাল সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ, জিআইএস ম্যাপিং ও হালনাগাদ জরিপের মাধ্যমে এডি লাইন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভূমি বিরোধ কমবে, ন্যায্য মালিকানা নিশ্চিত হবে এবং নদীঘেঁষা মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সায়মা ইউনুস (এনডিসি), মো. রায়হান কাওছার, মো. এমদাদুল হক চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিআলো/তুরাগ



