৫ দফা দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম
রমজান ও নির্বাচন বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট সাময়িক স্থগিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
তবে ৫ দফা দাবি আদায়ে আল্টিমেটাম দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। গত রবিবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে না।
এই আশ্বাস এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংগ্রাম পরিষদ।এর আগে রবিবার রাত ৯টার দিকে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও, পরবর্তী পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
ধর্মঘট স্থগিত করা হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ওপর নেওয়া শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী : ১. চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ জন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা, ২.১৫ জন কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি, ৩.আন্দোলনরত ও কর্মরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানাবিধ শাস্তি, ৪.আন্দোলনকারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল, ৫.সাময়িক বরখাস্তসহ ১৬ জনকে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে ফেলাএই পাঁচটি বিষয়কে ‘চরম হয়রানি’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানের আগে আমদানি করা খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিআলো/আমিনা



