বাপা-বেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলন সমাপ্ত: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত
উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ
বিশেষ প্রতিনিধি: পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য খণ্ডকালীন ও সীমিত প্রকল্প থেকে সরে এসে কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনাসহ সকল খাতে সমন্বিত ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এসব কথা বলেন তারা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ড. নজরুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক একেএম সাকিল নেওয়াজ, বিশিষ্ট নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মো. শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী, কৃষিবিদ মো. শাহ কামাল খান, বাপার কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির প্রমুখ।
দ্বিতীয় দিনে ‘বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. মাহবুব হোসেন। ‘দুর্যোগ, আবহাওয়া পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক মো. নিয়ামুল নাসের। ‘নগরায়ন ও ভৌত পরিকল্পনা এবং যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান।
জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য’ বিষয়ক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম সেলিম। এছাড়া সম্মেলনে বিশ্বের ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারিরা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সম্মেলন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা একেএম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর ভয়াবহ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে। ভূমিকম্প হবেই, আজ হোক বা কাল হোক, ছোট হোক বা বড় হোক। তাই আমাদের ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু। যেখানে গাড়ি প্রবেশের সুযোগ নাই। ভূমিকম্পে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে আছে গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইন। উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা নিয়ে ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা রং জীবনমান উন্নয়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে ঢাকা শহর। ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে নতুন উন্নয়নের চেয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান কাঠামোর পুনর্গঠন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব, সুপরিকল্পিত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের সমস্যা সমাধানে সাফল্যের জন্য কেবল নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহেরও সংস্কার প্রয়োজন। আগামীতে সরকার নীতি সংস্কারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে উদ্যোগী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিআলো/তুরাগ



