বাজার পরিস্থিতি
সম্পাদকীয়: সিন্ডিকেট দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফিরে আসবে, এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাজারে পণ্যমূল্য ক্রমেই বাড়ছে। বস্তুত সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই সব পণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। সিন্ডিকেটের থাবা থেকে বাদ যায়নি সবজিও। রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকার উপরে। হাতবদলের মারপ্যাঁচে সবজি বিক্রি হচ্ছে আকাশছোঁয়া দামে। স্থানীয় ব্যাপারী ও রাজধানীর ফড়িয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মাঠপর্যায়ে কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করছেন, রাজধানীতে ক্রেতা তার চেয়ে পাঁচগুণেরও বেশি দামে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে সড়কে নামে-বেনামে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমেছে।
প্রশ্ন হলো, তারপরও কেন নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফিরছে না? জানা যায়, উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যায়ে আসতে প্রতিটি ধাপেই পণ্যের দাম বাড়ছে। একদিকে ভোক্তা খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যদিকে পণ্য কম দামে বিক্রি করে ঠকছেন কৃষক।
উদাহরণ হিসাবে বরবটির কথা উল্লেখ করা যায়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জের স্থানীয় বাজারগুলোয় রোববার কৃষকের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বরবটি কিনেছেন প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকায়। এরপর ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েকবার হাতবদলের পর পণ্যটি খুচরা বিক্রেতার হাতে গিয়ে পৌঁছায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি করেন ১২০-১৩০ টাকায়। এসব ক্ষেত্রে কৃষক ও ভোক্তাসাধারণের স্বস্তি ফেরানোর পদক্ষেপ জরুরি।
এদিকে সরকারের তদারকি সংস্থাগুলোর অভিযান ঠেকাতে পাইকারি পর্যায়ে ঢাকার তেজগাঁও ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আড়তের ব্যবসায়ীদের ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাত থেকে আড়তে আনা হয়নি কোনো ডিম। এতে খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম আরও বেড়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে রেকর্ড ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।
অতীতেও আমরা লক্ষ করেছি, অভিযান শুরু হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যটির দাম আরও বাড়ে। বস্তুত সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই তা ঘটে। বর্তমানে বাজার তদারকিতে টাস্কফোর্সের কার্যক্রম শুরু হয়েছে; কিন্তু এর কোনো সুফল এখনো পায়নি মানুষ।
এদিকে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সিন্ডিকেট করছে, তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তার এ বক্তব্যের বাস্তবায়ন কাম্য। সিন্ডিকেটের সদস্যরা যাতে পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিত্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কাটাতেও নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।
বিআলো/শিলি