সালথায় বিএনপি নেতাসহ ২৯ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা, আটক ৫
সেতু আক্তার, ফরিদপুর: ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকসহ ২৯ জনের নামে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা) সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান শাকিল। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আডুয়াকান্দি গ্রামের ফরিদা বেগম নামের এক মহিলা বাদী হয়ে গত সোমবার সালথা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে চাঁদাবাজির ঘটনায় গত রবিবার দিবাগত রাতে সালথার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
জানা যায়, সালথায় এক তরুণীকে উত্ত্যক্তের জের ধরে বখাটেদের চাকুর আঘাতে কাসেম বেপারী (২৮) নামের এক যুবক খুন হওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদ ও তার ভায়রা জাহিদ মাতুব্বরসহ তাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা একাধিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আজাদের ভায়রা জাহিদ মাতুব্বর গ্রেপ্তার হলেও চাঁদাবাজির মূলহোতা হিসেবে পরিচিত যার পদবিকে পুঁজি করে কোটি টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে সেই বিএনপি নেতা খায়রুল বাশার আজাদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ কিংবা যৌথবাহিনী এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। এই বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সালথার সাধারণ জনগণের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী বলেন, আমরা ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। বাড়ির টাকা খরচ করে দল টিকেয়ে রাখতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিএনপি নেতা খায়রুল বাশার আজাদ আপার (শামা ওবায়েদ) এই সুনামকে পুঁজি করে এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে দলে ভিড়িয়ে চাঁদাবাজি আর লুটপাটে মেতে উঠেছেন। যেটা বিএনপির নেতারা হয়তো জানেন না! এছাড়া উপজেলা ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ও সঠিকটা বুঝতে দিচ্ছেন না আপাকে। তাই বিএনপিকে বাঁচাতে অতিশিগগিরই বিএনপি নেতা আজাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দলের সুনাম ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দাবি করছি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রশিদ বাচ্চু বলেন, দোষী যিনিই হোক আইনশৃঙ্খলা বাহি- নীর লোকেরা তদন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ব্যক্তির চেয়ে দল অনেক বড়। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে কেউ এ দলে থাকতে পারে না।
ফরিদপুর সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা) সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, সালথায় একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সালথা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আজাদকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নামোল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। বাকিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত আছে।
বিআলো/তুরাগ