অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিষয়ে সংবেদনশীল বাজেট
বিশেষ প্রতিনিধি: আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে একদিকে সামষ্টিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতি যথাযথ সংবেদনশীলতা দেখানো হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক-অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো বিষয়েও বাজেট-প্রণেতাদের সচেতন থাকতে হয়েছে। এই ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাই জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হয়নি।
আজ বুধবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে ‘বাজেট প্রতিক্রিয়া ২০২৫-২৬’ শীর্ষক অনলাইন অধিবেশনে এমন বক্তব্য রাখেন আলোচকবৃন্দ। বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন নবায়নযোগ্য শক্তি অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ও বিআইবিএম-এর ফ্যাকাল্টি মেম্বার মোরশেদ মিল্লাত, বিআইজিডি-এর রিসার্চ ফেলো সমাজতাত্ত্বিক খন্দকার সাখাওয়াত আলী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হালিদা হানুম আক্তার এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম. এ. সাত্তার মন্ডল।
উন্নয়ন সমন্বয়ের পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করেন সংস্থার গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী। তিনি বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় বাজেটে কাটছাটের প্রভাব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোর ওপর পড়বেনা- এমন প্রত্যাশা থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে সেই প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি। শুধু তাই নয়, এই খাতগুলোতে সঙ্কুচিত বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রেও গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।
যেমন: বিদায়ী অর্থবছরে শিক্ষায় দেয়া মোট বরাদ্দের মাত্র ২৯ শতাংশ গিয়েছে সরাসরি সরকার পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। নতুন বছরের বাজেটেও এ অনুপাত প্রায় অপরিবর্তিতই (২৭ শতাংশ) থেকে গেছে।
সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেও মোট বাজেটের শতাংশ হিসেবে এ খাতের বরাদ্দ বিদায়ী বছরের চেয়ে আসছে বছরে কমেছে বলে মন্তব্য করেন সাখাওয়াত আলী। তিনি আরও বলেন, নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কেবল গার্মেন্ট খাতেই লাখ লাখ শ্রমিক নিয়োজিত থাকলেও মাত্র ৩৩ হাজার শ্রমিকের জন্য সুনির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দ রয়েছে।
সামষ্টিক-অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনায় মোরশেদ মিল্লাত বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে নতুন কর প্রণোদনা নেই। এর ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে মনিটারি পলিসি উদ্যোগগুলো থেকেও আশানুরূপ ফল পাওয়া কঠিন হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য বরাদ্দের প্রসঙ্গে ডাক্তার হালিদা হানুম বলেন, বরাবরই স্বাস্থ্য বাজেটের বড় অংশ অবাস্তবায়িত থেকে যায়। স্বাস্থ্য বাজেট বাস্তবায়নে অদক্ষতার কারণে জনগণের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের বাড়তি চাপ পড়ে বলে তিনি মনে করেন। অধ্যাপক সাত্তার মণ্ডল মনে করেন, এবারে যেহেতু তুলনামূলক সঙ্কোচনমুখী বাজেট প্রণিত হয়েছে তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।
এছাড়াও উন্মুক্ত আলোচনা অংশ নেন তরুণ গবেষক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগি ড. মাহবুব হাসান।
বিআলো/তুরাগ