ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা: বিশুদ্ধ পানি ও নেটওয়ার্ক নেই, যোগাযোগ বন্ধ
আজমির মিশু, ফেনী: ফেনীতে গত দুই দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানের ঢল নামায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১৪টি স্থান ভেঙে গেছে। ফলে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার ৩০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় ফেনী-পরশুরাম সড়কের যান চলাচল। জরুরি সেবা, খাদ্য, ওষুধসহ সব ধরনের পরিবহন বন্ধ হয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
প্রবাসী নুর নবী জানান, ‘‘বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করলে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে বের হয়ে ফেনীতে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রধান সড়কে কোমরসমান পানি পাই। কোনো যানবাহন না পেয়ে অবশেষে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ির ঘরে আশ্রয় নিই।’’
ফুলগাজী ও পরশুরামের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল আনতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সঠিক সময়ে খাদ্যপণ্য ও জরুরি জিনিসপত্র না এলে মানুষ না খেয়ে মরার অবস্থা হবে।
জরুরি রোগী পরিবহনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী থেকে ফেনী, ঢাকা বা চট্টগ্রামে রোগী নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের অনেকেই ফেনীতে আটকে গেছেন, মিস হয়েছে তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক গভীর নলকূপ। বিদ্যুৎ না থাকায় মোটরচালিত ট্যাংকে পানি তুলতে না পারায় ভয়াবহ পানির সংকট তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি ও রান্নার পানির চরম সংকটে রয়েছেন।
ফেনীর বন্যাকবলিত মানুষের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সুপেয় পানি। যথাসময়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না হলে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলোর নেটওয়ার্কও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের খোঁজ নিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। এক আত্মীয় আরেক আত্মীয়ের খবরও নিতে পারছেন না।
ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবচেয়ে জরুরি এখন সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক চালু রাখা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা।
বিআলো/তুরাগ