এই লজ্জা কার? রাষ্ট্রের? নাকি আমাদের সবার? —এফ এইচ সবুজ
পুরান ঢাকার এক নিরীহ ব্যবসায়ী-রাজনীতি করতেন না, অপরাধী ছিলেন না, শুধু পরিশ্রম করে চলতেন। তার একমাত্র “অপরাধ” ছিল, চাঁদা না দেওয়া। আর সেই অপরাধেই তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন করা হলো।
দিনের আলোয়, মানুষের সামনে, খুন করার পর খুনি দাঁড়িয়ে পড়ল লাশের উপর, নাচতে লাগল-যেন ঘোষণা করছে: এটাই হবে পরিণতি, যদি চাঁদা না দাও।
আমরা সবাই দেখেছি। কেউ কিছু করিনি। কারণ খুনি একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হবার দৌড়ে থাকা ব্যক্তি। তার নাম বললেই নাকি হাত ধুয়ে ফেলতে হয়!
এটা নতুন কিছু নয়। বরং এই দেশেই আজকাল অপরাধীদের পরিচয়ই তাদের একমাত্র নিরাপত্তা। কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, কেউ ছাত্রলীগ, কেউ যুবদল-দলীয় ব্যাজই যেন আইনের বর্ম। আর বিচার? স্রেফ বিলাসিতা।
ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “ঘটনাটি চিন্তার বাইরে।” কিন্তু আমরা কি আর চিন্তা করি? ভাবনাগুলো এতদিনে আমাদের ভয়ের ভেতর দম আটকে মরেছে।
এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? যেখানে প্রতিবাদ করলে গুম হওয়া যায়, বিচার চাইলে মামলা খেতে হয়? আমরা নতুন সংবিধানের কথা বলি, নতুন নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখি-কিন্তু চাঁদা না দিলে যদি লাশ হতে হয়, তাহলে সে স্বপ্ন শুধু ধোঁয়া।
সেই খুনের ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। কেউ দেখে কাঁদছে, কেউ দেখে “হা হা” দিচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করছে, বেশিরভাগ চুপ। কারণ আমরা বুঝে গেছি-এখন প্রতিবাদ করাটাও সাহস নয়, রিস্ক।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই লজ্জা কার?
এই লজ্জা রাষ্ট্রের, যারা বিচার দিতে ব্যর্থ। এই লজ্জা রাজনৈতিক দলের, যারা অপরাধীদের পরিচয়ে লুকিয়ে পড়ে। আর সবচেয়ে বড় লজ্জা আমাদের—সাধারণ মানুষের, যারা জানি, দেখি, বুঝি-তবুও চুপ থাকি।
এই নীরবতা একদিন আপনাকেও গ্রাস করবে। আপনার প্রতিবেশী, আপনার ভাই, এমনকি আপনার সন্তানও হতে পারে পরবর্তী লাশ। আর তখন কেউ দাঁড়াবে না। কারণ তখনও সবাই চুপ থাকবে।
এখনও সময় আছে। প্রতিবাদ করুন, সোচ্চার হোন, না হলে চাঁদার টাকা রেডি রাখুন। অথবা অপেক্ষা করুন, কখন কে এসে আপনার লাশের উপর উঠে নাচবে।
লেখক -এফ এইচ সবুজ