আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা: শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ
মাসুদ, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয় চত্বরে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে, যা দীর্ঘদিন জমে থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, মাঠ ও আশপাশের এলাকায় যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে শিক্ষার্থীরা চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রীরা পানিতে ভিজে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছে। মূল ফটক থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত জমে থাকা পানির মধ্যে হেঁটে ক্লাসে পৌঁছাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী পলক হোসেন ও দশম শ্রেণির রাফিন ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে স্কুল প্রাঙ্গণে পানি জমে আছে। এখনো কোনো পানি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন পানির মধ্যে হাঁটতে গিয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
শিক্ষার্থী ওয়াফা আক্তার জানায়, প্রধান গেট থেকে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত হাঁটু পানি। জুতা ও স্কুলড্রেস ভিজে যাচ্ছে। এভাবে স্কুলে থাকা খুব কষ্টকর।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু হওয়ায় এবং আশপাশে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতি হয়েছে। আপাতত পানিতে ডুবে থাকা শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বিআলো/এফএইচএস