নাসিরনগরে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, অন্য পক্ষের দাবী প্রেমের সম্পর্ক
নাসিরনগরে কাতার ফেরত যুবকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ
নিহারেন্দু চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাতারপ্রবাসী মোক্তার মিয়া নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত ১০ (বৃহস্পতিবার) এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের চাচা বাদী হয়ে রোববার রাতে নাসিরনগর থানায় একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোক্তার মিয়া (২৮) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তিনি চাতলপাড় ইউনিয়নের ঘুজিয়াখাই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সকালে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত মোক্তার মিয়া তাকে জোর করে,মুখ চেপে ধরে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও মেয়ের পরিবার গিয়ে দরোজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত দুই দিন ধরে সেখানেই সে চিকিৎসাধীন আছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শিশু মিয়া বলেন, অভিযুক্ত মোক্তার বখাটে প্রকৃতির। কিছুদিন আগে কাতার থেকে ফিরে সে প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। আমরা এ ঘটনায় তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
চাতলপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমার গ্রামের, এ বিষয়ে লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু আমি ছেলে মেয়েকে এক সাথে দেখিনি। আপোষ মিমাংসা হওয়ার কথা ছিলো। পরে শোনলাম মামলা হয়েছে।
ঘুজিয়াখাঁই গ্রামের করিম মোল্লা জানান, ছেলে মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের দুইজনের একত্রে অনেক ঘণিষ্ট ছবিও রয়েছে। এটি পারিবারিক ভাবেই সমাধানের কথা বার্তা চলমান। এখন শুনছি মামলা হয়েছে। ধর্ষনের ঘটনাটি সত্য নয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ১০ জুলাই ঘটলেও আমরা রোববার রাতে জানতে পারি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিআলো/তুরাগ