যে ভাবে মব সন্ত্রাসী চালু করেছে তাহা ইতিহাসের বিরল ঘটনা: এম এ আলীম সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি এম এ আলীম সরকার বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একজন রিকশাচালককে তাঁর অনুভূতি, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েও জেলে যেতে হয়েছে। বর্তমানে রাজনীতির নামে যে ভাবে মব সন্ত্রাসী চালু করা হয়েছে তা ইতিহাসের বিরল ঘটনা। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে “বাংলাদেশের বাস্তবতায় গণতন্ত্র কি এবং কেন” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এম এ আলীম সরকার বলেন, “গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে জনগণই শাসনের প্রকৃত উৎস। গণ অর্থ জনগণ এবং তন্ত্র অর্থ শাসনব্যবস্থা। সুতরাং গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন। এই ব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি অথবা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো— জনগণের দ্বারা, জনগণের কল্যাণে, জনগণের শাসন।”
তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুথানে ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে জাতি কী পেল? অন্তর্বর্তী সরকার কি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পথ অনুসরণ করছে, নাকি প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে—তা পরিষ্কার নয়।
আলীম সরকার বলেন, “আমরা কেন প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে পারছি না? ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুথানে ১৪০০ ছাত্র-শ্রমিক-জনতা শহীদ হয়েছেন। কিন্তু আজ জাতি হতাশ। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পরিবর্তে মব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য অশনিসংকেত।”
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবিধান কোরআন-বাইবেল নয়। সংবিধান সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না, যতদিন মানুষের নৈতিক-মানবিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের উন্নতি না হবে। প্রয়োজন উন্নত চরিত্রের রাজনীতি ও নেতৃত্ব।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এম এ আলীম সরকার। অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিআলো/তুরাগ