আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ‘প্ল্যানের বাংলাদেশ’ নির্মাণের ডাক
মো. আশিকুর রহমান: নৈতিকতা, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে একটি বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনরা।
আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের নির্ভীক ভূমিকা, পেশাগত নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এসব বিষয় উঠে আসে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ট্রাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “আগামীর বাংলাদেশ, প্ল্যানের বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট কে. এম. কামরুজ্জামান নাননু, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটি। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করাই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, প্রত্যাশার বাংলাদেশ। তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মানবিকতা ছাড়া কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। একটি প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠন অপরিহার্য।
প্রধান আলোচক নজরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব), গাজীপুর জেলা পরিষদ বলেন, সাংবাদিকতা আজ আর শুধু তথ্য পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব ও আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি এবং জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ-এর প্রকাশক ও সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে আগামীর বাংলাদেশ প্রত্যাশিত রূপ পাবে না। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জীবন নিউজ ২৪ ডট কম-এর সম্পাদক মো. জীবন খান, দেশ টিভির সিনিয়র ক্যামেরা পার্সন মতিউর রহমান জনিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট সুধীজন।
বক্তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশে পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকতার ধরন বদলে যাচ্ছে—এমন বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও গুজব প্রতিরোধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা। তারা বলেন, নানা চাপ, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সাহসী ও নির্ভীক ভূমিকা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। ইতিহাস প্রমাণ করে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আলোচনা শেষে বক্তারা সাংবাদিকদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—ভয় নয়, বিবেককে সামনে রেখে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিআলো/তুরাগ



