আপিল যুদ্ধে ঝুলে আছে যশোর-২ নির্বাচনী আসনের ভাগ্য
আসাদুল ইসলাম শাওন, যশোর : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে নাটকীয় মোড় নিয়েছে প্রার্থিতার সমীকরণ। আইনি লড়াই শেষে কেউ ভোটের মাঠে ফিরছেন জয়ের হাসি নিয়ে, আবার কারো ভাগ্য ঝুলে আছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে গত ১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে রবিবার ইসির শুনানিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্বাচনী মাঠে ফিরতে তার আর কোনো বাধা রইল না। ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের ক্ষেত্রে। শুরুতে একটি ক্রেডিট কার্ডের ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।
যদিও তিনি ১ জানুয়ারি সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন তবে নতুন করে সামনে এসেছে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ। বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা এই অভিযোগ তোলায় ইসি আপাতত তার প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণপত্র জমা দিতে তাকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেদিনই নির্ধারিত হবে তিনি ভোটের মাঠে থাকতে পারবেন কি না। এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতাও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আসামি ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দিনই নিশ্চিত হওয়া যাবে তার প্রার্থিতার ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-২ আসনে ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত লড়াইয়ে কারা থাকছেন— তা জানতে আসামি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে এই আসনের ভোটারদের।
বিআলো/আমিনা



