এয়ার টিকিট বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা: ফের প্রতারণার শঙ্কা
পেছনে লুকানো পরিকল্পনাই কি অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা? এয়ার টিকিট বাজারে নতুন করে অস্থিরতা
হৃদয় খান: ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে দেশের এয়ার টিকিট বাজার। অস্বাভাবিক কম দামে টিকিট বিক্রির প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা কেবল মূল্যযুদ্ধ নয়—বরং আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য প্রতারণার আশঙ্কাকেও সামনে নিয়ে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে লোকসান দিয়ে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে কিছু এজেন্সি বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যার চূড়ান্ত ঝুঁকি গিয়ে পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু এয়ার টিকিট এজেন্সি নিজেদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন দামে টিকিট বিক্রি করছে, যা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী International Air Transport Association (IATA) নির্ধারিত বেজ ফেয়ার এবং নির্ধারিত কমিশন কাঠামোর বাইরে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কম দামে টিকিট বিক্রি করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, কমিশন বাদ দেওয়ার পরও নির্দিষ্ট সীমার নিচে টিকিট বিক্রির সুযোগ থাকে না।
অর্থনীতির মৌলিক নীতি অনুযায়ী ধারাবাহিক লোকসান দিয়ে কোনো ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজারে গ্রাহকের আস্থা তৈরি করে বড় অঙ্কের অগ্রিম অর্থ সংগ্রহের পর হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অতীতে আলোচিত টিবিপি, ফ্লাইফার এবং ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ঘটনার দৃষ্টান্ত টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই সময় হাজার হাজার গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। অস্বাভাবিক ছাড়ের প্রলোভনে টিকিট কিনে পরে অনেকে অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হন। বর্তমান পরিস্থিতি সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত বহন করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর দুর্বল মনিটরিং এবং কার্যকর তদারকির অভাবই অনিয়মকে উৎসাহিত করছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা একই কৌশলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। এর ফলে পুরো খাতেই আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা—বিশেষ করে প্রবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার টিকিট বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে সুস্পষ্ট ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্যের সীমারেখা নির্ধারণ, অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছ মূল্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত আর্থিক অডিট এবং লাইসেন্স তদারকি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবারও কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও জন্যই। এয়ার টিকিট বাজারে সাধারণ মানুষের আস্থা ও আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি।
বিআলো/তুরাগ



