কক্সবাজার জেলা থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্তে কৃষকদের কান্না
নুরুল আমিন, লোহাগড়া (চট্টগ্রাম) : দেশীয় উৎপাদন উপেক্ষায় হুমকির মুখে হাজারো লবণচাষীর জীবন-জীবিকা পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার শুধু সমুদ্রসৈকতের শহর নয়, এই জেলা দেশের লবণ উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোদ, ঝড় ও লবণাক্ত পানির সঙ্গে লড়াই করে এখানকার হাজারো পরিবার দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ লবণ সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু এমন বাস্তবতায় সরকারের সাম্প্রতিক লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কক্সবাজারের লবণচাষীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
চাষীদের অভিযোগ, দেশীয় লবণ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে সরাসরি তাদের জীবিকার উপর আঘাত হানা। এতে শুধু লবণের ন্যায্যমূল্য ধসে পড়ার আশঙ্কাই নয়, বরং হাজারো পরিবার অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় লবণচাষীরা বলছেন, যেখানে দেশের মাঠেই লবণ উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে বিদেশি লবণের প্রয়োজন কেন? আমাদের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য দাম না দিয়ে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া মানে কৃষকের পেটে লাথি মারা। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এনামুল হক বলেন, কক্সবাজার জেলার লবণ চাষ শুধু একটি কৃষি কার্যক্রম নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
জেলার হাজারো পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, লবণ চাষের উন্নয়ন হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে। তাই এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ অপরিহার্য। সচেতন মহলের মতে, লবণ আমদানির পথে না গিয়ে সরকার চাইলে দেশীয় লবণচাষীদের প্রণোদনা, ভর্তুকি ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারত। এতে উৎপাদন অনেক গুণ বাড়ত, কৃষক লাভবান হতো এবং লবণ রপ্তানির মধ্য দিয়ে দেশ হতো প্রকৃত অর্থে আত্মনির্ভরশীল। বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, কৃষককে উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।
তারা বলছেন, কৃষকের ঘাম শুকানোর আগেই যদি তার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়, তবে উন্নয়নের গল্প কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের লবণচাষীদের দাবি স্পষ্ট ও একটাই, দেশীয় লবণ কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, লবণচাষীদের ন্যায্য মূল্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, আর কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সচেতন মহলের কণ্ঠে এখন একটাই আহ্বান- কৃষক বাঁচুক, দেশ বাঁচুক।
বিআলো/আমিনা



