কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তিতে নতুন নীতিমালা কার্যকর
নিজস্ব প্রতিবেদক: কারাগারে আটক বন্দিদের প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে সরকার নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এতে প্যারোলে মুক্তির কারণ, সময়সীমা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এ নীতিমালার তথ্য জানিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেন।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি ও সাধারণ সব শ্রেণির কয়েদি ও হাজতি বন্দির নিকট আত্মীয়- যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা আপন ভাই-বোনের মৃত্যু হলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্যারোলে মুক্তির সময় বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রাখতে হবে এবং মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার এ সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখবে।
বন্দি যে জেলায় কারাবন্দি রয়েছেন, সাধারণত সেই জেলার ভেতরেই প্যারোল মঞ্জুর করা যাবে। অন্য জেলায় আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুর্গমতা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। প্যারোল শেষে অনুমোদিত সময়ের মধ্যেই বন্দিকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকবে।
এ নীতিমালায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০০৭ ও ২০১০ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত আগের দুটি নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিআলো/শিলি



