গোবিন্দগঞ্জে যানজট, দুর্ঘটনা আর অব্যবস্থাপনায় নাকাল জনজীবন
তৌফিকুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা দিয়ে হিলি ও বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বড় একটি অংশ কার্যত সিএনজিচালিত অটোরিকশার দখলে চলে গেছে। এতে করে নির্বিঘ্ন যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীনভাবে অঘোষিত স্ট্যান্ড গড়ে তুলে যাত্রী ওঠানামা করছে সিএনজি অটোরিকশা। ফলে দিনভর যানজট লেগেই থাকছে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জনভোগান্তি। সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের অংশে ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাজুড়ে অটোরিকশার রাজত্ব। উত্তর বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে শত শত অটোরিকশা।
একই ধরনের চিত্র দেখা যায় গোবিন্দগঞ্জ–দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং উপজেলা রোডের মূল ফটক এলাকায়। এসব সড়কে যানবাহন নিয়ে প্রবেশ বা চলাচল করতে গিয়ে চালক ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। এলোপাতাড়ি চলাচল ও সড়কের ওপর আড়াআড়ি করে অটোরিকশা রাখার কারণে ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাসচালক আবদুল আজিজ বলেন, ছোট ছোট যানবাহন সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
হর্ণ বাজিয়েও সহজে সরানো যায় না। পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে বিশ মিনিট লেগে যায়। এতে সময় ও আয় দুটোই নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও অ্যাড. মো. মোস্তাকিম হোসেন বলেন, এটি মহাসড়ক নয়, যেন একটি বড় বাসস্ট্যান্ড। মৃত্যুর ফাঁদ তৈরি হয়ে আছে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) শাহ আলম বলেন, যানজট নিরসনে থানা চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে এবং হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, এটি মূলত হাইওয়ে পুলিশের এখতিয়ার। তবে প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
বিআলো/আমিনা



