চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের টানা কর্মবিরতিতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। প্রায় এক সপ্তাহের অচলাবস্থায় কয়েক হাজার কোটি টাকার রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্মবিরতির কারণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৬৬ কোটি ডলার মূল্যের (প্রায় ৮ হাজার ৭২ কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য বন্দরে আটকা পড়ে। এতে দেশের রপ্তানি আয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এনসিটি চুক্তি বাতিল ও কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ৩১ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করে। পরে তা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। নৌ-উপদেষ্টার বন্দর পরিদর্শনের পর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত হলেও উত্তেজনা আবার বাড়ে। অবশেষে জাতীয় নির্বাচন ও রমজানকে সামনে রেখে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়েছে।
রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। বিকেএমইএর হিসাবে, কয়েক দিনে অন্তত ২৫ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পেরে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বেশি খরচে বিমানপথে পণ্য রপ্তানি করতে হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ১৯০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে এবং জাহাজ ও কনটেইনার জটে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ গুনতে হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে বিজিএমইএ জানিয়েছে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তারা বিভিন্ন কারখানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরের এই অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি করতে পারে।
বিআলো/আমিনা



