চন্দ্রদ্বীপে জামায়াতের মিছিলে হামলার জেরে বাউফল থানা ঘেরাও—ওসি প্রত্যাহারের দাবি
বাউফলে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে, নির্বাচনি মিছিলে সহিংসতা: আহত ২২
নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস প্রশাসনের
মোঃ তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী মিছিলে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি কর্মীদের হামলায় নারী কর্মীসহ অন্তত ২২ জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বাউফল মডেল থানার প্রধান ফটক ঘেরাও করেছেন জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের খানকা বাজার এলাকায় দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। পরে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মিছিলের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। রামদা, রড ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করা হয়।
হামলায় আহত অন্তত ২২ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে জামাল মৃধা (২২)-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, আরও পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামায়াতে ইসলামীর বাউফল উপজেলা শাখার উদ্যোগে বাউফল মডেল থানার প্রধান ফটকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জামায়াত মনোনীত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে জামায়াত, ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করে বলেন, “একাধিকবার হামলার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এতে নারী কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না। তিনি একটি বিশেষ দলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে তাঁকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই আসনের সাড়ে তিন লাখ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ, বাউফলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মি মেজর তানজিল, সার্কেল এসপি সাকুর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মি মেজর তানজিল বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বাউফল উপজেলাকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “প্রাপ্ত সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
সার্কেল এসপি সাকুর বলেন, “পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বাউফল থানার সব কার্যক্রম আমার তত্ত্বাবধানে থাকবে।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হামলার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বাউফল শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিআলো/তুরাগ



