ছাতক পৌর টোল আদায় নিয়ে সংকট
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভা থেকে বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও নদীপথে টোল আদায় করতে না পারায় চরম বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার। স্থানীয় দুটি নৌ পরিবহন সংগঠনের টোল দিতে অস্বীকৃতির কারণে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৩ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দে ছাতক পৌরসভা কার্যালয় থেকে সরকারি নিয়মানুযায়ী নদীপথে পণ্য লোড-আনলোড, মজুদ ও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত ইট, বালি, পাথর, চুনাপাথর, সিমেন্টসহ দুটি টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয় মেসার্স সামছু মিয়া এন্ড সন্সকে। ইজারা গ্রহণের পর থেকেই শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতি ও একতা বালি উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড সরকারি বিধি অমান্য করে টোল পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ করেন ইজারাদার।
এতে নিয়মিত টোল আদায় ব্যাহত হওয়ায় ইজারাদার বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইজারাদারের অভিযোগ, টোল আদায় করতে গেলে তার লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি বৈধ টোল আদায়কারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করলে টোল আদায়কারী শ্রমিক জামিনে মুক্তি পান। জানা গেছে, গত বছরের ১৭ এপ্রিল পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা টোল আদায় বৈধ বলে স্বীকার করেন। তবে এরপরও প্রায় দুই শতাধিক নৌকা থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় করা যাচ্ছে না বলে জানান ইজারাদার।
মেসার্স সামছু মিয়া এন্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন রানা বলেন, আমি সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে টোল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি ইজারা প্রক্রিয়ায় পরাজিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টোল দিচ্ছে না। এতে আমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। একতা বালি উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি আব্দুস সাত্তার বলেন, আমাদের নৌযানগুলো পৌরসভার নির্ধারিত সীমানার ভেতরে আসে না। যারা আসে তারা নির্ধারিত টোলের চেয়ে কিছু কম পরিশোধ করে। এ বিষয়ে শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি হাজি ছালেক মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ছাতক পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা স্বরদিন্দু রায় বলেন, ইজারাদার লিখিতভাবে আবেদন করলে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। ছাতক পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিআলো/আমিনা



