ঢাকা-৪ আসনে বিরাট লড়াই শেষে জামায়াত প্রার্থীর জয়, নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা
ব্যালটের লড়াইয়ে সূক্ষ্ম ব্যবধান, বড় রাজনৈতিক বার্তা
২,৯২০ ভোট ব্যবধানের জয়ী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন
ইবনে ফরহাদ তুরাগঃ ভোটের দিন শেষ, কিন্তু উত্তেজনার রাত তখনও বাকি। কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গণনার চাপে, সমর্থকরা যেন নিঃশ্বাস আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিজয়ী হিসেবে উদ্ভাসিত হন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধান নিয়ে ঢাকা-৪-এর মঞ্চে বিজয়রথে আরোহন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জয়ী হয়েছেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৭৭,৩৬৭ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪,৪৪৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান দাঁড়ায় ২,৯২০ ভোটে।
ফলাফল ঘোষণার আগে রাতে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ধোলাইখাল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১৫টি কেন্দ্রের ভোটগণনা শেষ হলেও, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আফরোজা খাতুন স্বাক্ষর না করায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিলম্বিত হয়। ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেন জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে আরএমএস কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রজুড়ে অপেক্ষার পর ভোরে অফিসিয়াল ফলাফলে দেখা যায়, জামায়াত ইসলামি সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন ৭৪,৪৪৭ ভোট, ব্যবধান ২,৯২০ ভোট।
জয়ের পর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ দয়ায় ও রহমতে এবার ঢাকা-৪ এর সর্বস্তরের মানুষের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিজয় লাভ করেছেন। এই বিজয় ঢাকা-৪ এর সর্বস্তরের বিজয়।
আমি মনে করি, ২৪ সালের জুলাই বিপ্লব, যারা রক্তের বিনিময়ে তা ঘটিয়েছেন, সেই ত্যাগ এবং কুরবানির কারণে আজকের এই বিজয় সম্ভব হয়েছে। আমরা দেখেছি, যদি জুলাই বিপ্লব না হত, তাহলে হয়তো নির্বাচন হতো না, এই বিজয়ও হতো না।
আমরা সবসময়ই জুলাই বিপ্লবে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন এবং আন্দোলনে শামিল হয়েছেন, তাদের কথা স্মরণ করব, সম্মান করব। জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ রাখব, পাশে থাকব, এবং তারা যে উদ্দেশ্যে জুলাই বিপ্লব ঘটিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্য পূরণ করব। ঢাকা-৪ এর সর্বস্তরের মানুষদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব। অবহেলিত ও বঞ্চিত ঢাকা-৪ নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছি, তা বাস্তবায়ন করব। আল্লাহ পাক আমাদের কবুল করুন।
আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য ঢাকা-৪ গড়ে তুলি, ইনশাআল্লাহ। সকলের পরামর্শ নিয়ে আমি আমার পথ চলব। একটি মডেল ঢাকা-৪ গড়তে বিশেষ করে সহযোগিতা লাগবে।
আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপির মনোনীত আলহাজ্ব তানভীর আহমেদ রবিনের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়েই আমরা ঢাকা-৪ এর উন্নয়ন করব। এর পাশাপাশি, অন্য যে সকল প্রার্থী ছিলেন, তারা কম ভোট পেয়েছে বা বেশি পেয়েছে, সেই দিকে না তাকিয়ে, তাদেরও ইশতেহার আছে, পরিকল্পনা আছে, স্বপ্ন আছে। তাদের নিয়ে ঢাকা-৪ কে এগিয়ে নিয়ে যাব আমরা, ইনশাআল্লাহ। সবাইকে ধন্যবাদ।
বিআলো/নিউজ



