তারেক রহমানের প্রতি তরুণের খোলা চিঠি
জনাব তারেক রহমান
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
শ্রদ্ধেয়,
তেলবাজি কিংবা সুবিধাবাদীদের ঢাল হিসেবে নয় বরং না বলা কিছু সত্য কথা আজ এই খোলা চিঠির মাধ্যমে বলছি। এতে কেউ ভালো বলুক বা খারাপ, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ এই কথাগুলো শুধু আমার নয়, এগুলো বহু মানুষের মনের কথা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশে ফেরেন, তখন তিনি সরাসরি জানতেন না, এই নয় মাসে কী ভয়াবহ ত্যাগ, রক্ত আর বেদনার মধ্য দিয়ে এ দেশ এগিয়েছে। তিনি তখন নির্ভর করেছিলেন তার নিকটবর্তী মানুষ, রাজনৈতিক পরামর্শক ও মিডিয়ার কথার ওপর। এর সীমাবদ্ধতার ফল ইতিহাসে আমরা দেখেছি।
পরবর্তীতে তার কন্যা শেখ হাসিনার অহংকারী উত্থান, ফ্যাসিবাদী শাসন এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ জনগণ ও তরুণদের রক্তস্রোতের বিনিময়ে স্বৈরশাসনের পতন এই বাস্তবতা আজ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এখন পুরো জাতি তাকিয়ে আছে একটি নতুন, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের দিকে। আপনি আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আপনার মায়ের ভূমিকা- এদেশের মানুষের অজানা নয়। আপনার প্রতিও মানুষের প্রত্যাশা অপরিসীম। তবে বিনীতভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই গত ১৭ বছর আপনি সরাসরি বাংলাদেশের মাটিতে ছিলেন না। এই সময়ে আপনি যা জেনেছেন বা দেখেছেন, তা পরিবার, উপদেষ্টা কিংবা মিডিয়ার মাধ্যমেই। কিন্তু এ তথ্য গত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের পূর্ণ চিত্র নয়।
বাংলাদেশকে সত্যিকারভাবে জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে তৃণমূলে প্রত্যন্ত সেই জনপদে, যেখানে মানুষের শরীরে লেগে আছে মাটির গন্ধ, মাছের গন্ধ; নোনা পানিতে ফেটে গেছে শ্রমজীবী মানুষের হাত-পা। যেখানে এমন অসংখ্য নির্যাতন, বঞ্চনা ও অবিচারের গল্প আছে-যা আজও কেউ শোনেনি, মিডিয়ার আলো তো দূরের কথা। বাংলার প্রবাদ আছে “হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ।”
এই অন্ধত্ব যেন আর না থাকে। আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ বাংলাদেশের ৬৪ জেলা, ৪৯৫ উপজেলা, ৪৫৭৯ ইউনিয়ন ও ৮৭,৩১৯ গ্রামের মানুষের না-বলা কথাগুলো নিজ উদ্যোগে শোনার চেষ্টা করুন। জানি, আপনার একার পক্ষে সবকিছু দেখা বা শোনা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচনের আগে যতটুকু সম্ভব, অন্তত কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা নিজ চোখে দেখুন, নিজ কানে শুনুন। এই অভিজ্ঞতাই নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক শক্তি, জনশক্তি, মেধাশক্তি, কৃষিশক্তি এবং টেকসই তারুণ্যনির্ভর সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আপনার সিদ্ধান্ত ও দৃষ্টিভঙ্গির দিকেই তাকিয়ে আছে।
বিনীত,
ছৈয়দ ইফতেখার হৃদয়
বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক ও সমাজকর্মী
বিআলো/ইমরান



