দল বদলেছে, দুর্ভোগ বদলায়নি: ঢাকা-৫ এ ভোটারদের প্রশ্ন ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি
বদলেছে সরকার, বদলায়নি জীবন, সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা—ভোটারদের প্রত্যাশা
ভোটারদের কণ্ঠে জমে থাকা ক্ষোভ, প্রতিশ্রুতি নয়, পরিবর্তনের অপেক্ষা
সুমন চৌধুরী ও এফ এইচ সবুজ: ঢাকা-৫ আসন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদে রাজনীতি বদলেছে বহুবার, বদলেছে ক্ষমতার রং। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষায়, দুর্ভোগ বদলায়নি। যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী ঘুরে কথা বলে এমনটাই উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। মাঠপর্যায়ে তার সরব উপস্থিতি এবং এলাকাভিত্তিক সমস্যা নিয়ে কথা বলার ভঙ্গি ভোটারদের একাংশের দৃষ্টি কেড়েছে।
স্থানীয়দের বুকে চাপা ক্ষোভ, তারা বলছেন, আমরা আওয়ামী লীগ দেখেছি, বিএনপিও দেখেছি। ভোট দিয়েছি, আশা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তাদের এই বক্তব্যেই ফুটে ওঠে বছরের পর বছর জমে থাকা এক ধরনের রাজনৈতিক হতাশা—যা শুধু একজনের নয়, বরং পুরো এলাকার বহু মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন।
তারা আরও জানান, নেতারা নির্বাচনের সময় আসেন, পরে আর দেখা যায় না। রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, মাদক—সব আগের মতোই থাকে।
এই বাস্তবতায় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, এবার অন্তত সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে উঠে আসছে।
মধ্যবয়সী বাসিন্দারা বলছেন , চিকিৎসা নেই, চাকরি নেই, নিরাপত্তা নেই—এই বিষয়গুলো নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন খোলাখুলি কথা বলছেন। এটা আমরা আগে খুব একটা দেখিনি। কেউ কেউ বলছেন, তারা এখন আর দল নয়—কথা ও কাজের মিল দেখতে চান।
জামায়েত ইসলামীর ৪৯ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ জানান, ঢাকা-৫ আসনে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কামাল হোসেন একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তিনি একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনছেন।
তার মতে, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে কামাল হোসেনের মাধ্যমে ঢাকা-৫ আসনে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
জনসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। ঢাকা-৫ এর মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত। তাদের সমস্যার সমাধান করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৫ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভোটারদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে বিকল্প ভাবনার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে—এমন ইঙ্গিত মিলছে মাঠপর্যায়ের আলোচনায়।
ঢাকা-৫ এর ভোটাররা এবার আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না, তারা চান দৃশ্যমান পরিবর্তন।
এই পরিবর্তনের পক্ষে তাদের রায় যাবে, নাকি রাজনীতি ফিরবে পুরনো ধারাতেই—তার উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই আসনে ভোট হবে শুধু দল নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার বিচার।
বিআলো/এফএইচএস



