দাউদকান্দি থানার লুট হওয়া ৯টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি
সচেতন মহলের উদ্বেগ, আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার সতর্কবার্তা
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার, দাউদকান্দি: দাউদকান্দি মডেল থানার অস্ত্রাগার থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লুট হওয়া ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশের ব্যবহৃত এসব অস্ত্রের অনুপস্থিতি এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হলে ভোট প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।
লুটের ঘটনাটি ঘটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর, যখন দুর্বৃত্তরা থানায় অগ্নিসংযোগ চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, নগদ অর্থ, জব্দ করা যানবাহন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই সময় ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত ২৭টি অস্ত্রের মধ্যে মাত্র ৫টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও ২২টি অস্ত্র উদ্ধারের বাইরে রয়েছে।
এলাকার সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার বলেন, “আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করুন। তবে কেউ যেন নিরপরাধ হয়ে কোনো হয়রানির শিকার না হয়।”
যুব বিভাগের পৌর সেক্রেটারি তৌফিক রুবেল বলেন, “থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়ায় এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।” কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুলও নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার আহ্বান জানান।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম. আব্দুল হালিম জানান, “এলাকার সচেতন মহলের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লুট হওয়া বা অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিআলো/তুরাগ



