দাউদকান্দিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল, এনসিপির কয়েক শত নেতাকর্মীর বিএনপিতে গণযোগদান
বেগম খালেদা জিয়ার ৪৮ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মরণে আবেগঘন দোয়া
মো. শাহাদাত হোসেন তালুকদার, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই মাহফিল বিএনপির রাজনৈতিক ঐক্য, শক্তি ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের সুস্পষ্ট বার্তায় রূপ নেয়।
দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ কে এম লতিফ ভূঁইয়া।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুল হক, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, নূর মোহাম্মদ সরকার, জসিম উদ্দিন আহমেদ, সাইফুল আলম ভূঁইয়া, শাওগাত চৌধুরী পিটার, এ কে এম সাত্তার, কামাল হোসেন, আহাম্মদ হোসেন তালুকদার, সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপির প্রবীণ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার ৪৮ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক। তিনি জীবনে কখনো কারও সঙ্গে আপোষ করেননি। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই আবেগ উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝেও গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করে।
প্রধান বক্তা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, “তারেক রহমান বীরের মতো দেশে ফিরে এসেছেন—তিনি এসেছেন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই। বিএনপি আবারও জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার প্রতীক। দীর্ঘ স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের মুখেও তিনি আপোষহীন থেকেছেন। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগ আজও বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর আন্দোলনের প্রধান প্রেরণা।
বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর ভাষায় বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার অপচেষ্টা আর গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। এসব দাবি বাস্তবায়নে বিএনপিই একমাত্র কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি বলে তারা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কয়েক শত নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বিএনপিতে যোগদান করেন। তারা ঘোষণা দেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা বিএনপির নেতৃত্বেই রাজপথে থাকবেন। এই গণযোগদান দাউদকান্দিসহ পুরো কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শেষ পর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, দেশবাসীর মুক্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দোয়া মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিআলো/তুরাগ



