ধর্মভিত্তিক দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীতে বদলাচ্ছে বরিশালের সমীকরণ
বরিশাল ব্যুরো : বরিশাল বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভাগের ২১টি আসনের অনেকগুলোতেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় প্রচারণা, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবাহান মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে বিএনপির অ্যাড. জয়নুল আবেদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। একই আসনে এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে বিএনপির রাজীব আহসানের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল জব্বার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বরিশাল-৫ (মহানগর সদর) আসনে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আবুল হোসেন খানের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও জামায়াতের মাহমুদুন্নবী প্রচারণা চালাচ্ছেন। পটুয়াখালীতে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পটুয়াখালী-৪ আসনে এ বি এম মোশারফ হোসেনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
তবে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার ও জামায়াতের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ভিপি নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলোচনায় রয়েছে। ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে ভোলা-১ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থ ও জামায়াতের মো. নজরুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
ভোলা-২ আসনে বিএনপির হাফিজ ইব্রাহিমের সঙ্গে জামায়াতের মোহাম্মদ ফজলুল করিমের লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ভোলা-৪ আসনে নুরুল ইসলাম নয়ন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল ও জামায়াতের ড. ফয়জুল হকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জামায়াতের শেখ নেয়ামুল করিম এবং ইসলামী আন্দোলনের ড. সিরাজুল ইসলাম সিরাজির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।
বরগুনা-১ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলনের মো. ওলি উল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বরগুনা-২ আসনে বিএনপির নুরুল ইসলাম মনি ও জামায়াতের ডা. সুলতান আহমেদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বিপরীতে জামায়াতের মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির সোহেল সুমন মঞ্জুরের বিপরীতে জামায়াতের শামিম সাঈদী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপির রুহুল আমিন দুলাল ও ইসলামী আন্দোলনের ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগের নির্বাচনী মাঠে এবার একক আধিপত্যের চিত্র নেই। একাধিক আসনে ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হওয়ায় ভোটের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ই নির্ধারণ করবে এই বিভাগের নির্বাচনের ফল।
বিআলো/আমিনা



