নারায়ণগঞ্জ-১ আসন: রূপগঞ্জে দিপুর জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ দুলাল হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইঁয়ার সামনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ক্লিন ইমেজের কারণে রূপগঞ্জবাসীর কাছে দুলাল হোসেন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিভিন্ন চাপ, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাঠে টিকে আছেন দুলাল হোসেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর একাধিকবার হামলা, মনোনয়ন বাতিলের চেষ্টা এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে মনোনয়ন ফিরে পান তিনি। রাজপথে সক্রিয় এই নেতা বর্তমানে রূপগঞ্জবাসীর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইঁয়ার জন্য নির্বাচনে জয়লাভ করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রূপগঞ্জের স্থানীয় সন্তান দুলাল হোসেন তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন প্রায় তিন দশক আগে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। এরপর বাড্ডা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য, সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রদল মনোনীত তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে মনোনয়ন পান তিনি। পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
ছাত্ররাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুলাল হোসেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির একজন আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জাতীয়তাবাদী নেতা গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারির একজন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে গড়ে তুলেছেন এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি শেষে এখন তিনি রূপগঞ্জ থানা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ইতোমধ্যে তিনি থানা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে রূপগঞ্জবাসীর কাছে দুলাল হোসেন আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশে পূর্বাচল নিউটাউন ঘেরা রূপগঞ্জকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ লক্ষ্যেই নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কাজ করছেন দুলাল হোসেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘ ১৭ বছর রূপগঞ্জ সন্ত্রাস ও দখলবাজির জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই পুরনো চিত্রে আর ফিরে যেতে চান না তিনি। ফলে দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি এলাকায় একটি শক্ত ‘ক্লিন ইমেজ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
দুলাল হোসেন সম্পর্কে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন,
“মোহাম্মদ দুলাল হোসেন বিদেশে বসে এসি রুমে রাজনীতি করা কেউ নন। ঢাকার উত্তপ্ত রাজপথে তিলে তিলে গড়ে ওঠা একজন পরীক্ষিত নেতা তিনি। আগামী দিনে আমরা তাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একজন বিশ্বস্ত কাণ্ডারি হিসেবে দেখতে চাই।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুলাল হোসেন তার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরছেন। সম্প্রতি এক লেখায় তিনি বলেন,
“নেতার সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি দেখিয়ে যদি কেউ চাঁদাবাজি বা দখলবাজি করতে যায়, তাহলে তাকে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। এমনকি নেতা ফোন দিলেও তাকেও আইনের আওতায় আনুন। দলের জন্য ৩০ বছর যৌবন দিয়েছি চাঁদাবাজদের দায় নিতে নয়। যারা ১৭ বছর ব্যানার ধরেছে, মিছিল করেছে—তারাই প্রকৃত কর্মী ও নেতা। চাঁদাবাজ-দখলবাজরা আমাদের দলের কেউ না।”
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে এবারের নির্বাচন যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই লড়াইয়ে দুলাল হোসেন যে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইঁয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন, তা এখন রূপগঞ্জের রাজনীতিতে স্পষ্ট।
বিআলো/তুরাগ



