নারায়ণগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের জালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক
সদর মডেল থানার অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
জি. এম. মাসুদ ঢালী, নারায়ণগঞ্জ: নগরীর বাবুরাইল এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চারজন ডাকাত সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। রাতের আঁধারে পরিকল্পিত ডাকাতির আগেই পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে যায় তাদের অপকর্ম। অভিযানে ডাকাতদের কাছ থেকে একাধিক দেশীয় অস্ত্র ও লোহার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানার একটি টহল দল নগরীর ১নং বাবুরাইল এলাকার ১১৮/১ মোবারকশাহ রোডে বনফুল সুইটস (প্রা.)-এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাকা রাস্তার ওপর সন্দেহজনকভাবে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন—
১. মো. রবিন (৪০) — পিতা: মৃত আজাদ, মাতা: আনোয়ারা বেগম।
স্থায়ী ঠিকানা: ২নং বাবুরাইল মসজিদের সামনে, নারায়ণগঞ্জ সদর।
বর্তমান ঠিকানা: ২নং বাবুরাইল, কুতুব মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।
২. হৃদয় সিকদার @ সুমন আহমেদ (২৮) — পিতা: খোকন সিকদার @ শরাফত @ কামাল, মাতা: মায়া বেগম।
ঠিকানা: ভূইয়া পাড়া (৪৮৪/৪ শাহ সুজা রোড), নারায়ণগঞ্জ সদর।
৩. মো. সজল (২১) — পিতা: মো. শুক্কুর আলী, মাতা: মোছা. নাজমা।
স্থায়ী ঠিকানা: গঙ্গীপাড়া, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী।
বর্তমান ঠিকানা: জল্লাপাড়া মসজিদ গলি, সুমনের বাড়ির ভাড়াটিয়া, নারায়ণগঞ্জ সদর।
৪. মো. মকবুল সরদার (৪০) — পিতা: মৃত সুলতান সরদার, মাতা: আনোয়ারা বেগম।
ঠিকানা: সৈয়দপুর বড় বাড়ি, নারায়ণগঞ্জ সদর।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম
গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে—
সুইচ গিয়ার: ২টি
চাপাতি: ১টি
ছোরা: ২টি
লোহার রড: ৫টি
হাম্বল: ১টি
এ ঘটনায় পলাতক আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ঘটনার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশের এই অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত টহল ও তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
বিআলো/তুরাগ



