নারায়ণগঞ্জে বিএনপিতে ফিরলেন প্রায় সবাই, বাকি শুধু তৈমূর
মনিরুল ইসলাম মনির: নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কৃত থাকা বিএনপির প্রায় সকল নেতাকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকায় এখন একমাত্র নামটি রয়ে গেছে—তৈমূর আলম খন্দকার।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের ধারণা, মনিরুল আলম সেন্টুর মতো একজন নেতা দলে ফিরলে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রত্যাবর্তনও সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গত ১ জানুয়ারি মনিরুল আলম সেন্টু ও রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।
মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ভোটার রয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি আবার বিএনপির কার্যক্রমে সক্রিয় হন এবং ফতুল্লা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা তাকে দলে ফেরানোর দাবি জানান।
অন্যদিকে, সরকার পতনের পর ৫ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত হন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। তাকেও এবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে দলের ভেতরের বিভক্তি কমাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঐক্য জোরদারে কাজ করছে।
জানা গেছে, তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। তাকে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি জানিয়েছেন—দল স্বেচ্ছায় ডাকলে তবেই তিনি ফিরবেন।
তৈমূর আলম বর্তমানে ‘তৃণমূল বিএনপি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মেনে চলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। চলতি জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রস্তাব পেলেও তিনি কোনো দল থেকেই নির্বাচন করেননি। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন ও তার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করায় তৈমূর আলম খন্দকার ও তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট, মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে বহিষ্কার করা হয়। গত ২৬ নভেম্বর এটিএম কামালের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়াও ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করার অভিযোগে বহিষ্কৃত মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলসহ একাধিক নেতাকে সম্প্রতি দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় যেকোনো সময় তৈমূর আলম খন্দকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিআলো/তুরাগ



