পর্যটন শিল্পেই গড়ে উঠবে ঐক্য, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি: ঢাবি ভিসি
আব্দুল হাই খোকন, (রাঙামাটি) পার্বত্য চট্টগ্রাম: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে পর্যটন শিল্প হতে পারে সামাজিক ঐক্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্প সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ট্যুরিজম কনফারেন্স–২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাবিপ্রবি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, রাঙামাটির অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-লেকঘেরা পরিবেশ, বহুজাতিক সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পরিকল্পিত গবেষণা, কার্যকর নীতিনির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে রাঙামাটি আন্তর্জাতিক মানের একটি পর্যটন গন্তব্য ও পর্যটন জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবিপ্রবির ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও কনফারেন্সের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রহিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হেলেন উদ্দিন শেখ। তিনি রাঙামাটিকে ইকো-ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেন।
কনফারেন্সের প্লেনারি সেশনে ‘Tourism Tomorrow: Nature’s Next Frontier to Explore’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের কো-চেয়ার মোসা. হাবিবা। সমাপনী বক্তব্য দেন কনফারেন্সের সদস্য-সচিব সহযোগী অধ্যাপক জি এম সেলিম আহমেদ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। এদিন কী-নোট স্পিচ, ওরাল ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় পর্যটন সম্মেলন।
বিআলো/তুরাগ



