পাহাড়ের বুক থেকে মানবতার আলো—অজিত’দার গল্প
আবদুল হাই খোকন: পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে চলা এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ গল্প—তার নাম অজিত কুমার তনচংগ্যা। কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাপছড়ি উপর পাড়ার এই মানুষটি আজ আর কেবল একটি নাম নন; তিনি বিশ্বাস, ভরসা ও মানবিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। সবার কাছে তিনি পরিচিত অজিত’দা নামে।
১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া অজিত কুমার তনচংগ্যা শৈশব থেকেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন পাহাড়ের প্রকৃতি, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং সমাজের কঠিন বাস্তবতা। পিতা শ্লোক ধন তনচংগ্যার কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মূল্যবোধ। সেই শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করেই বড় হয়েছেন—নিজেকে সমাজের জন্য উৎসর্গ করার স্বপ্ন নিয়ে।
পদ-পদবি নয়, মানুষই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক—সব অঙ্গনেই তাঁর পদচারণা নীরব হলেও গভীর ও দৃঢ়। কখনো বৌদ্ধ বিহারের সেবায়, কখনো শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণে, আবার কখনো সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে—অজিত’দা থাকেন নিঃশব্দে, এক নির্ভরতার প্রতিচ্ছবি হয়ে।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ তনচংগ্যা কল্যাণ সংস্থা কাপ্তাই অঞ্চলের সভাপতি, ওয়াগ্গা সাপছড়ি বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি, ওয়াগ্গা সাপছড়ি শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক, সাপছড়ি উপরপাড়া শ্মশান রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ তনচংগ্যা কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কাপ্তাই উপজেলা ছাড়িয়ে রাঙামাটি জেলার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি এক সুপরিচিত মুখ। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর কাছেই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য এই মানুষটি বিশ্বাস করেন—
“পরিচয়ের আগে মানুষ, ধর্মের আগে মানবতা, রাজনীতির আগে সমাজ।”
এই দর্শনই তাঁকে গড়ে তুলেছে পাহাড় ও সমতলের মাঝে এক জীবন্ত সেতুবন্ধন হিসেবে। মানুষের বিপদে যিনি সবার আগে এগিয়ে আসেন, অথচ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান না—তিনি অজিত’দা। নীরবতাই যার শক্তি, মানবতাই যার পরিচয়।
আজকের পাহাড়ি সমাজে, যেখানে সংকট, বিভাজন ও দূরত্বের গল্প বেশি শোনা যায়, সেখানে অজিত কুমার তনচংগ্যা এক ব্যতিক্রমী নাম—যিনি মানুষকে দেখেন শুধু মানুষ হিসেবেই।
বিআলো/ইমরান



