প্রান্তিক মানুষের জন্য দায়িত্বশীল এআই জরুরি: উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ মনে করেন, দেশের সবচেয়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি অপরিহার্য। তিনি বলেন, “এই মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম মানবিকতা, ন্যায্যতা ও বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। তাই এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।”
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এআই প্রযুক্তি এখনও সীমিত। এই ঘাটতি পূরণ করতে দেশীয় গবেষণা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা জরুরি।
বাংলাদেশ রেসপনসিবল এআই সামিট ২০২৬ উদ্বোধন
শারমীন এস মুরশিদের মন্তব্য এমআইএসটি-তে (মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ রেসপনসিবল এআই সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতার সময় প্রকাশ পায়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিএসই বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান মজিব, এনডিইউ, পিএসসি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
সামিটের মূল বক্তা, নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন ফেলো ড. উপোল এহসান বলেন, “দেশে তৈরি, আমদানি নয়: বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” শীর্ষক বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বাস্তবতা অনুযায়ী দেশীয় এআই সমাধান উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং নীতি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর এআই নীতিমালা অপরিহার্য।
সামিটে একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্বশীল এআই নিয়ে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পোস্টার উপস্থাপনা ও এআই প্রজেক্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে এমআইএসটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সেরা প্রকল্প ও পোস্টার উপস্থাপনকারীদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়।
বিআলো/তুরাগ



