প্রার্থিতা প্রত্যাহারে তিনজন, নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনে লড়াইয়ে ৪৭ প্রার্থী
নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কিছুটা রদবদলের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। তিনজন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এবার জেলার পাঁচ আসনে ভোটের মাঠে থাকছেন মোট ৪৭ জন প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৪৭ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন, তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমার মধ্যে তিনজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে একই দলের মো. আবুল কালাম দুলাল এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ রয়েছেন। ফলে পাঁচটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে সাতজন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ছয়জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এগারোজন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তেরোজন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দশজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি আসনেই দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ভোটের লড়াই বহুমুখী রূপ নিয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের সাতজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দুলাল আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, যা এই আসনের রাজনীতিকে আরও আলোচনায় এনেছে।
আড়াইহাজার উপজেলার নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ছয়জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াত, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সর্বমোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় এ আসনটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
ফতুল্লা ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১৩ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন মো. শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। একই সঙ্গে বিএনপি জোট ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী থাকায় এ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ তুলনামূলক বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত এলাকায় ১০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র ও বাম রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর অংশগ্রহণে এ আসনে ভোটের লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু হলে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়েই নির্বাচনী আমেজ আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআলো/তুরাগ



