প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মহিউদ্দিন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে তার নির্বাচনী এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মহিউদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে গত ২ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী স্বাক্ষরিত তথ্যে গরমিল থাকার কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং অফিসারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় আপিল শুনানি শেষে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর মহিউদ্দিনের অনুসারী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহিউদ্দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। এ ব্যাপারে মহিউদ্দিন জানান, তিনি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,০৯,৪৬৭ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মহিউদ্দিনকে বিধি মোতাবেক ১ শতাংশ ভোটারের (৫,০৯৫ জন) সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়েছিল। প্রাথমিক যাচাইবাছাইয়ে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে (লটারি পদ্ধতিতে) ১০ জনকে নির্বাচিত বা বাছাই করা হয়। লটারিতে ১০টি সিরিয়ালের মধ্যে ২৯৪নং সিরিয়াল আসে। কিন্তু মহিউদ্দিনের সরবরাহকৃত তালিকায় এই ক্রমিক নং ফাঁকা থাকায় জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী মনোনয়নটি বাতিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিলো গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫। মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ আগামি ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ওই দিন থেকেই প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি দেশজুড়ে সংবিধান সংস্কারের ওপর একটি বিশেষ গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিআলো/আমিনা



