ফরিদপুর-৪ আসন, প্রচারণায় এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ ও বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল
সেতু আক্তার, ফরিদপুর : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, চরভদ্রাসন ও ভাঙ্গা) তিন উপজেলার সংসদীয়-১ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রার্থী ও সমর্থকদের সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও মিছিলে আনন্দঘণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে।
তবে এই সরব প্রচারণার আড়ালে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে চাপা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তব ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এই আসনে কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো প্রকাশ্য প্রচারণা তুলনামূলক কম। অনেক ভোটারই প্রকাশ্যে কাকে ভোট দেবেন তা বলতে অনাগ্রহী।
স্থানীয়দের মতে, ভয় ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কাই এর অন্যতম কারণ। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্পষ্ট যোগ্য, সৎ ও নতুন নেতৃত্ব। গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া নীরব ভোটারদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত শুক্রবার এই ৪ আসনের তিনটি উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্থপতি মুজাহিদ বেগ ও বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের সাথে।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন। তার অবস্থানও কম নয়। এই আসনে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও শক্তিশালী কর্মীসমর্থনের ওপর ভর করে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির মনোনীন প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী স্থপতি মুজাহিদ বেগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই আসনের গরীব দুঃখী মানুষের বিপদ আপদে সব সময় সাহায্য সহযোগিতা করার ফলে তারও রয়েছে বিশাল এক শক্তিশালী কর্মীসমর্থন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ এর এক কর্মী বলেন, আমরা জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
মানুষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে। আমরা আশাবাদী, প্রতিপক্ষের চেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব ইনশাল্লাহ। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসেন ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনের ওপর ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
১১ দলীয় জোটের নেতারা মনে করছেন, ইসলামপন্থীদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে জামায়াত ইসলামী জিতবে ইনশাল্লাহ। ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রকাশ্যে অবস্থান জানাতে অনাগ্রহী হলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নীরব ভোটারদের রায়ই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে বলে আশাবাদী সাধারণ ভোটারদের।
বিআলো/আমিনা



