ফেসবুক পোস্ট থেকে বাস্তব সহায়তা: অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের উদ্যোগে বদলে গেল তিন শিশুর পরিবারের জীবন
এক সপ্তাহেই ঘর, গরু ও বাজার—মানবিক দৃষ্টান্ত গড়লেন অধ্যাপক পলিন
সালাম মাহমুদ: আমরা অনেক সময় জীবনের ছোটখাটো অসুবিধা নিয়েই অভিযোগে মুখর হই। অথচ সমাজের এক প্রান্তে এমন পরিবারও আছে, যাদের কাছে বিলাসিতা তো দূরের কথা—প্রতিদিনের বেঁচে থাকাই এক কঠিন সংগ্রাম। এমনই এক অসহায় তিন শিশুর পরিবারের জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয় হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর সিনিয়র পরিচালক (উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং বিক্রয় ও বিপণন) অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের।
পোস্টটিতে পরিবারটির করুণ অবস্থার বর্ণনা থাকলেও সেখানে সঠিক ঠিকানা উল্লেখ ছিল না। কমেন্টের মাধ্যমে ঠিকানা জানার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিন। তিনি তাঁর নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী টিমকে পরিবারটির খোঁজে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেন।
পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবী টিমের নিরলস প্রচেষ্টায় জানা যায়, পরিবারটির বসবাস ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সিন্দুরনা নদী পাড়া গ্রামে। ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর অধ্যাপক পলিন সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিবারটির বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই অসহায় পরিবারটির জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তাদের জীবিকা নির্বাহের কথা বিবেচনা করে একটি দুধ দেওয়া গরু এবং এক মাসের বাজার সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। এই সহায়তায় পরিবারটির জীবনে ফিরে আসে নতুন আশার আলো।
মানবিক কাজের ক্ষেত্রে অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের এমন উদ্যোগ নতুন নয়। এর আগেও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে ঘর উপহার দিয়েছেন। মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাঁর নিজস্ব একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম রয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁর দৃষ্টিতে এলেই পাশে দাঁড়ানো—এটাই যেন অধ্যাপক কামরুন নাহার পলিনের নীরব অঙ্গীকার। যেখানে পদবী বা পরিচয়ের চেয়ে মানবিকতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় পরিচয়।
বিআলো/তুরাগ



