বনরক্ষীদের ফাঁড়ি সংলগ্ন জেলেপল্লি থেকে অস্ত্রের মুখে ৬ জনকে অপহরণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর এলাকায় বনরক্ষীদের টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি জেলেপল্লি থেকে ছয়জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায়।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে একদল জলদস্যু অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বনরক্ষীদের টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি জেলেপল্লীতে হানা দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার পেছনে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীকে দায়ী করছেন তারা। অপহৃত জেলেরা হলেন, খাইরুল (৩৫), ফারুক (২৮), সামসুল ইসলাম (২৫), সফরুল (৩২), মারুফ (২৮) ও মিলন (৩০)।
তাদের বাড়ি কয়রা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দুবলার লইট্রাখালী এলাকায় জেলেদের একটি ট্রলার দস্যুরা নিয়ে যায়। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই শুক্রবার দিবাগত রাতে বনরক্ষীদের ফাঁড়ি সংলগ্ন জেলেপল্লি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দেয় বনদস্যুরা। এসময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পল্লির ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা।
এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফুল হক মিঠু বলেন, এতদিন সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার সময় বনদস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের ধরে নিয়ে যেত। এখন দস্যুরা বনরক্ষীদের টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন জেলেপল্লীতে হানা দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে। শুক্রবার রাতে ৬ জেলেকে অপহরণের পরে চরের জেলেদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বনদস্যু দমনে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে দাবি জানান এই ব্যবসায়ী।
পূর্ব সুন্দরবনের জেলেপল্লি দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় শনিবার দুপুরে বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে করিম শরীফ বাহিনী শেলারচরের জেলেপল্লীতে হানা দিয়ে ৬ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে লইট্রাখালী এলাকায় জেলেদের একটি ট্রলার দস্যুরা নিয়ে গেছে। পৃথক দুটি ঘটনা ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, শেলারচরে ৬ জেলে অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। শেলারচরে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপত্তায় শেলারচর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিআলো/আমিনা



