বাউফলে জামায়াত কর্মীকে অপহরণ করে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
মো. তরিকুল ইসলাম (মোস্তফা),বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক জামায়াত কর্মীকে অপহরণের পর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে। বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কালাইয়া–চন্দ্রদ্বীপ সড়ক থেকে জামায়াত কর্মী আবুল কাশেম (২৮)-কে কৌশলে তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল আবুল কাশেমকে অপহরণ করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে তার গলায় ছুরি ধরে এবং পায়ের রগ কাটার উদ্দেশ্যে উরুতে একাধিকবার আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধ এবং একটি মামলার সাক্ষী হওয়াই এই হামলার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে চাঁদাবাজি, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন আবুল কাশেম।
হামলার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আবুল কাশেমকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার সকালে আহত কাশেমকে দেখতে হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা আমীর মাওলানা ইসহাক মিয়া, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ দলটির নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় জামায়াত নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,
“চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। জামায়াতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা, দোকান লুট ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনায় বিএনপি কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আবুল কাশেমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসন আগেভাগে ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের রক্তপাত এড়ানো যেত।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআলো/ইমরান



