বাউফলের জনসমাবেশে স্পষ্ট বার্তা; মাঠের রাজনীতিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শক্তিমত্তার প্রদর্শন
হেলিকপ্টারে আগমন, জনসভায় শক্তি প্রদর্শন —বাউফলে জনসমুদ্রে রূপ নিল পাবলিক ফিল্ড
আলোচনায় ১১ দলীয় ঐক্য জোট
মোঃ তরিকুল ইসলাম (মোস্তফা) বাউফল, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তির সুস্পষ্ট প্রদর্শন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশ বাউফল ও আশপাশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সকাল থেকেই বাউফলের ঐতিহ্যবাহী পাবলিক ফিল্ড ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। অনেক ভোটারের কাছেই এটি ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমানকে সরাসরি দেখার প্রথম সুযোগ। হেলিকপ্টারে করে তার আগমন এবং মঞ্চে ওঠার মুহূর্তে জনসভা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসহাকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মামলাবাজি, ফ্যাসিবাদ ও বিচারহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা থেকে দেশকে বের করে এনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা।
তিনি আরও বলেন, “১৩ তারিখে নতুন সূর্য উদিত হবে পিঠে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ। মহান রাব্বুল আলামিন যদি আমাদের সুযোগ দেন, তবে আমাদের দুই হাতের দশ আঙুলের চেয়েও দেশ পরিষ্কার থাকবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোট ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও ভালোবাসার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বরিশাল মহানগরীর আমির জহির উদ্দিন বাবুর, পটুয়াখালী জেলা আমির নাজমুল হোসেন, ছারছীনা দরবার শরীফের ছোট হুজুর আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এই জনসমাবেশের রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই যে, বাউফল ও পটুয়াখালী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠ তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও এই আয়োজন নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে।
প্রবীণ ভোটাররা জানান, বহু বছর পর তারা এতো বড় জনসমাগম দেখেছেন। একই সঙ্গে তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রাজনৈতিক সচেতনতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসভা ১১ দলীয় ঐক্য জোটের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনভিত্তির একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। জনসভা শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে অংশগ্রহণকে নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি সক্রিয় ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন হয়। সব মিলিয়ে, এই জনসমাবেশ শুধু তাৎক্ষণিক নির্বাচনী প্রচারণাই নয়, বরং আগামী দিনে বাউফল ও পটুয়াখালীর ভোটের সমীকরণ এবং মাঠের রাজনীতিতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অবস্থান কোন পথে এগোচ্ছে—তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গেল।
বিআলো/তুরাগ



