বিতর্কিত বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনে আপিল এলডিপি প্রার্থীর
কে.ডি পিন্টু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ : চট্টগ্রাম-১৪ (আসন নং-২৯১) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীনের মনোনয়ন অবৈধভাবে গৃহীত হয়েছে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী ওমর ফারুক। তিনি এলডিপির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদের সন্তান। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আপিলে ওমর ফারুক দাবি করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের সাত দিনের মধ্যে কোনো প্রার্থী স্বীকৃত ব্যাংকের ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হন।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়ন দাখিল ও যাচাইয়ের সময় পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাছে ঋণসংক্রান্ত দায় পরিশোধ হয়নি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্য থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। আপিলে বলা হয়, মনোনয়ন যাচাইয়ের নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ঋণসংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির নথি উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং যাচাইয়ের দিন ঢাকার সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর মতিঝিল শাখা থেকে চট্টগ্রামে তড়িঘড়ি করে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যা আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয় বলে আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত অবস্থান চূড়ান্ত ও প্রশ্নাতীত হতে হয়; অন্য জেলা বা শাখা থেকে শেষ মুহূর্তে আনা আংশিক বা প্রক্রিয়াধীন নথির মাধ্যমে ঋণখেলাপির অবস্থা বৈধ করা যায় না।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ঋণখেলাপি অবস্থা বহাল থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বৈধ রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। আপিলে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামা ও আয়কর নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা রয়েছে। আয়কর রিটার্নে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদর্শন করা হলেও এর উৎস স্পষ্ট নয়, যা দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা নির্বাচনী আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অনিয়ম এবং মনোনয়ন বাতিলের কারণ হতে পারে বলে আপিলে দাবি করা হয়। এছাড়া আপিলে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত। এসব মামলার প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথি মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। আপিলে বলা হয়, সংসদ সদস্য প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণ, স্পষ্ট ও স্বচ্ছ প্রকাশ আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ওমর ফারুকের আপিলে বলা হয়, এসব অভিযোগ উপেক্ষা করে মনোনয়ন বহাল থাকলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা এবং ভোটারদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীন অতীতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিআলো/আমিনা



