বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় যেতে চায় একটি দল : চরমোনাই পীর
জহিরুল ইসলাম, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্খায় জামায়াতে ইসলামী বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে দ্বিমুখী আচরণ করছে দলটি। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পৌর শিশু পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, কথাবার্তা আর বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলে জনগণ তা বুঝতে দেরি করে না। ক্ষমতার মোহে পড়ে যারা বিদেশি প্রভাবের দ্বারস্থ হয় তাদের আসল চেহারা ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তখন যদি শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন নিশ্চিত না হয়ে থাকে তবে নতুন করে সেই একই আশ্বাস কতটা বিশ্বাসযোগ্য সেটি ভেবে দেখার সময় এসেছে। দেশের মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত হওয়ার মতো অবস্থায় নেই। দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে রেজাউল করিম বলেন, গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন পথচলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল যেখানে ইসলাম ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল। তবে নেতৃত্ব ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে সেই সমঝোতা আর বাস্তব রূপ পায়নি। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি মহল ইসলামী আদর্শকে পাশ কাটিয়ে প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে।
অথচ এই ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন দেশ পরিচালিত হলেও প্রকৃত ন্যায়বিচারের কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়নি এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ভোটারদের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর বলেন, দেশ ও ইসলামের কল্যাণে যারা আন্তরিক তারা ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অনিবার্য।
হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার এখনই উপযুক্ত সময়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও জেলা সহ-সভাপতি জাকির হোসেন পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার, দাঈ হাবীবুর রহমান মিসবাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিআলো/আমিনা



